আচমকাই ঘনিয়ে এল প্রাণঘাতী বিপদ। পথ দুর্ঘটনায় দাদু ও নাতির মর্মান্তিক মৃত্যু। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে দাদু কাদের শেখের প্রাণ গেলেও বেঁচে ছিল ৭ বছরের শিশুটি। তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে রামপুরহাট হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান পরিজনেরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৪৫ বছর বয়সী কাদের শেখ ও তাঁর ৭ বছরের নাতি তামিম শেখের। স্ত্রী ও নাতিকে নিয়ে মোটরবাইকে যাচ্ছিলেন কাদের শেখ। ভরতা মোড় থেকে রোডে ওঠার সময় একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে বাইকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দাদু কাদের শেখের। তখনও ধুঁকছিল শিশুটি। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
পরিবারের অভিযোগ, "হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সে সময় কোনও সিনিয়র চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।" নার্সরা তেমন কোনও চেষ্টা করেননি বলে অভিযোগ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হওয়াতেই শিশুটির মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে শুরু হয় বিক্ষোভ। কর্মরত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন পরিজনেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে কর্তব্যরত নার্সরা জানিয়েছেন, "শিশুটিকে আনার পরপরই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল। যেহেতু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক ছিল, তাই তড়িঘড়ি সিনিয়র ডাক্তারকে ফোন করা হয়। তবে ডাক্তারবাবু পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।" গোটা ঘটনা ঘিরে বেশ কিছুক্ষণ উত্তপ্ত ছিল রামপুরহাট হাসপাতালের পরিস্থিতি। উত্তেজনার জেরে সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় হাসপাতালের পরিষেবাও।
