রাস্তা যেন আস্ত পুকুর! দু'পা এগোলেই মাথা উঁচিয়ে রয়েছে বিপদ। যে কোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে প্রাণের ঝুঁকি। জঙ্গলমহলের 'জীবনরেখা' হিসেবে পরিচিত বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম ৯ নম্বর রাজ্য সড়ক এখন আতঙ্কের আরেক নাম স্থানীয়দের কাছে। ৩৫ কিলোমিটার পথ কার্যত নরক! বিক্রমপুর থেকে বাঁকুড়ার শেষ সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তার বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ১৪০ কোটি টাকা খরচে রাস্তাটি নতুনভাবে তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় বছরখানেক আগে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে রাস্তায়। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে ৫০০-র বেশি ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল করে। বুধবারের বৃষ্টির দাপটে সেই গর্তই এখন পুকুর! স্থানীয়রা বলছেন, জল জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে মাঝেমধ্যেই উল্টে যাচ্ছে বাইক ও গাড়ি। প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এভাবেই যাতায়াত করতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, "ভোটের আগে লোক দেখানো কিছু কাজ শুরু হয়েছিল ঠিকই। জেসিবি দিয়ে রাস্তার কিছু অংশ খুঁড়ে রাখা হলেও সেই কাজ এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। যার জেরে এখন রাস্তার অবস্থা আরও শোচনীয়।
রাস্তা সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার পথ অবরোধ করে প্রতিবাদ সামিল হয়েছে বিজেপি ও সিপিআইএম সমর্থকরা। অভিযোগ, প্রতিবারই প্রশাসনের তরফে মেরামতির আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবে চোখে দেখা যায়নি। রাস্তার কঙ্কালসার দশা নিয়ে বিরোধীরা যখন সুর চড়াচ্ছে, তখন শাসকদলের অন্দরেও জিইয়ে রয়েছে অস্বস্তি। সম্প্রতি এক সরকারি ভবনের উদ্বোধনে এসে জেলা স্তরের এক তৃণমূল নেতৃত্ব নিজেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "আমরা কোথায় বাস করছি? এটাই কি উন্নয়নের নমুনা?" প্রশাসনের গাফিলতির কথা পরোক্ষে স্বীকার করে নিয়েছেন শাসকদলেরই একাংশ।
সূত্রের খবর, রায়পুরে নির্বাচনী জনসভায় আসা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরেও এই রাস্তার বিষয়টি আনা হয়েছিল। তাঁর সফরের আগে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়লেও, বর্তমানে সেই কাজ ফের বিশ বাঁও জলে। কোনও এক 'অজ্ঞাত' কারণে সংস্কারের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। সবমিলিয়ে ভোট মিটলেও সংস্কার এখনও অধরা, কবে হবে রাজ্য সড়ক মেরামতের কাজ? সেদিকেই তাকিয়ে গ্রামবাসীরা।
