নির্বাচনের আগে বাবরি আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটের ময়দানে নামেন। নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করে রাজ্যের একাধিক আসনে প্রার্থীও দেন। তবে ভোটের আগেই বেশিরভাগ প্রার্থীই তাঁর তৃণমূলে যোগ দেন। তবে নিজে নওদা এবং রেজিনগর থেকে লড়াইয়ের ময়দানে নামেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। আর এই দুই আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয় পাবেন বলে আত্মবিশ্বাসী তিনি। তবে নওদা রাখলেও রেজিনগর থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানান হুমায়ুন। আর এই দাবিকেই হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধীরা।
প্রথম দফায় অর্থাৎ গত ২৩ এপ্রিল ভোট ছিল মুর্শিদাবাদে। নওদা, রেজিনগর-সহ একাধিক আসনে ভোট হয়। কিন্তু ভোটের আগেই প্রকাশ্যে আসে হুমায়ুন কবীরের বিস্ফোরক একটি ভিডিও। যা দেখিয়ে বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের আঁতাতের অভিযোগ তোলে শাসকদল তৃণমূল। শুধু তাই নয়, ভাইরাল ভিডিওতে হুমায়ুককে বলতে শোনা যায়, ''মুসলিমদের বোকা বানানো খুব সহজ।'' যা মোটেই ভালো চোখে নেয়নি সংখ্যালঘু সমাজ। আর তাই ভোটের দিন দফায় দফায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় আম জনতা উন্নয়ন পার্টি সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীরকে। কোথাও শুনতে হয় 'চোর' স্লোগান তো আবার কোথাও বিজেপির সঙ্গে তাঁর আঁতাতের অভিযোগে হয় বিক্ষোভ। প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ে একটা সময় রীতিমতো মেজাজ হারিয়ে ফেলেন হুমায়ুন। কিন্তু এরপরেও নওদা এবং রেজিনগর আসন থেকে তাঁর জয় নিশ্চিত বলেই দাবি।
আম জনতা উন্নয়ন পার্টি সুপ্রিমো বলেন, ''নওদা এবং রেজিনগরে দু'জায়গা থেকেই জিতছি। তবে রেজিনগর থেকে পদত্যাগ করব। লোকসভা পর্যন্ত নওদায় থাকব। এরপর বহরপুর থেকে লোকসভায় দাঁড়াবো।'' সূত্রের খবর, রেজিনগর থেকে হুমায়ুন তাঁর ছেলেকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে টিকিট দিতে পারেন। তবে দুই আসনে হুমায়ুনের জয়ের দাবিকে হাস্যকর বলেই উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধীরা।
এই প্রসঙ্গে নওদা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সফিউজ্জামান শেখ বলেন, ''গাছে কাঠাল গোঁফে তেল। আগে ফল ঘোষণা হোক তারপর ও বিধায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখুক। নওদায় ওর জামানত জব্দ হবে। লোকসভা নির্বাচন তো অনেক দূরে। ফল ঘোষণার পর ও লজ্জায় রাজনীতি থেকে অবসর নিতে বাধ্য হবে।'' শুধু তৃণমূল নয়, এই নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপিও। বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, ''হুমায়ুন নওদা ও রেজিনগরে দুই কেন্দ্রে পরাজিত হবে। আসলে ওর মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাই পাগলের প্রলাপ বোকছে। রাজ্যে এবার পরিবর্তন ঘটছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। শুধু সময়ের অপেক্ষা।''
