সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে সেচকুয়োতে পড়ে গিয়েছিল একটি ছোট্ট হরিণ। সকালবেলায় চাষের কাজে মাঠে যাওয়ায় তা নজরে পড়ে জমির মালিকের। ব্যস, তারপরই জেনে যায় গোটা গ্রামের মানুষ। কিন্তু পুরুলিয়ার কোটশিলা বনাঞ্চলের সিমনি বিটের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দারা তাকে তির-ধনুক বা বল্লম দিয়ে লালগড়ের বাগঘরা জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গলের মতো হত্যা করেনি। বরং সেচের কুয়োতে ঝাঁপ দিয়ে হরিণকে বাঁচিয়ে বন দপ্তরের হাতে তুলে দিয়েছে। মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দাদের এমন কাজে তাঁদেরকে কুর্নিশ জানিয়েছে বন দপ্তর।
[মৎস্যজীবীদের জালে উঠে এল আস্ত কুমির, সেলফির হিড়িক মালদহের গঙ্গাপাড়ের গ্রামে]
পুরুলিয়া বিভাগের ডিএফও রামপ্রসাদ বদানা বলেন, “সত্যিই কোটশিলা বনাঞ্চলের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দারা ভাল কাজ করেছেন। বন্যপ্রাণ বাঁচাতে দপ্তরের যে ধারাবাহিক প্রচার চলে তার সুফল অধিকাংশ সময়ই পাওয়া যায়। এটা তারই প্রমাণ। এই ঘটনায় আমরা ভীষনই খুশি।” এই মাদী হরিণটি বার্কিং ডিয়ার। এর বয়স চার বছর। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ শ্রেনিতে তিন নম্বরে রয়েছে। ওই মোহনপুর গ্রাম থেকে হরিণটিকে ঝালদা বনাঞ্চল কার্যালয় তারপর শহর পুরুলিয়ার উপকন্ঠে সুরুলিয়া মিনি জু-তে নিয়ে আসা হয়েছে। কিছুদিন ওই বন্যপ্রাণটিকে পর্যবেক্ষনে রাখার পর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বন দপ্তর।
[পথ দেখাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, ভোটের আগেই সেরার শিরোপা পেল বাংলার পঞ্চায়েত]
স্থানীয় ও বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সাতসকালে ওই মোহনপুর গ্রামের কৃষক তপন মারাদন তার চাষের জমিতে গিয়ে দেখেন সেচকুয়োতে হরিণ! দেখে চমকে ওঠেন তিনি। এই এলাকাটি দিয়ে হাতি-সহ একাধিক বন্যপ্রাণের যাওয়া আসা হলেও এভাবে সেচ কুয়োতে হরিণ পড়ে যাবে তা ভাবতেই পারেননি কৃষক তপন বাবু। তাই প্রবল উৎসাহে গ্রামের বাসিন্দাদের কে ডাকেন তিনি। এরপরই একাধিক বাসিন্দা ওই সেচকুয়োতে নেমে হরিণটিকে উদ্ধার করে বন দপ্তরে খবর দেন। ওই কৃষক তপন মারাদন বলেন, “সম্ভবত ভোরবেলায় এই ঘটনা ঘটে। আমার ধারণা খাবার খেতে জঙ্গল থেকে চলে আসায় সেচকুয়োয় পড়ে যায়। হরিণটিকে বাঁচাতে পেরে আমাদের খুব ভাল লাগছে।”
[ভাগাড়ের মাংস খাবারের পাতে! চক্রের খোঁজে কোলে মার্কেটে হানা পুরকর্মীদের]
ছবি- অমিত সিং দেও
The post বাগঘরার উলটো ছবি পুরুলিয়ায়, কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে হরিণকে রক্ষা স্থানীয়দের appeared first on Sangbad Pratidin.
