shono
Advertisement

লালঝান্ডা ফেলে এখন হাতে পুঁথি মজিদ মাস্টারের

সিপিএম ছেড়েছেন মজিদ মাস্টার কিন্তু ‘বিতর্ক’ পিছু ছাড়েনি। The post লালঝান্ডা ফেলে এখন হাতে পুঁথি মজিদ মাস্টারের appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 10:13 AM Aug 10, 2017Updated: 04:46 AM Aug 10, 2017

ক্ষীরোদ ভট্টাচার্য: দিন যখন ছিল, বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খাইয়ে ছেড়েছেন। এখন দিন গিয়েছে। পরাক্রমও অস্তমিত। আদৌ দলে থাকবেন কি না তা নিয়েই চলছিল টানাপোড়েন। অবশেষে চূড়ান্ত ফয়সালা করেই ফেললেন ‘মাস্টারমশাই’। সিপিএম ছাড়লেন মজিদ মাস্টার।
দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যজুড়ে সিপিএমের সদস্যপদ নবীকরণের সাম্প্রতিকতম পর্বটি শেষ হয়েছে গত জুলাইয়ে। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির কাছে মজিদ মাস্টারের সদস্যপদ রিনিউয়ালের আবেদন জমা পড়েনি। অর্থাৎ এখন আর সিপিএমের সঙ্গে কোনও সংশ্রব নেই এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা মজিদ মাস্টারের। বাম জমানায় যিনি কিনা নিজের খাসতালুক শাসনের ‘ত্রাস’ হিসাবে সম্যক পরিচিত ছিলেন।

Advertisement

তা উনি দল ছাড়লেন কেন?

উত্তরটাও নিজেই দিয়েছেন মজিদ মাস্টার। “বুড়ো হয়েছি। বয়স তিয়াত্তর বছর। শরীরে আর কুলোচ্ছে না।”–ব্যাখা দিয়েছেন তিনি। দার্শনিকসুলভ কন্ঠে এ—ও বলেছেন,“অনেক হয়েছে। এখন শুধু হরি দিন তো গেল, সন্ধ্যা হল পার করো আমারে।” এখন না হয় এমন বলছেন। কিন্তু ক্ষমতায় ছিলেন যখন, তখন কী না করেছেন। বিরোধীদের জব্দ করতে সন্ত্রাসের কত অভিযোগ তাঁর নামে। সে সব নিয়ে অবশ্য হেলদোল নেই। নির্বিকার চিত্তে বলেন,“রাজনীতি করতাম, যা সঠিক মনে করেছি, তাই করেছি।” তবে অভিযোগগুলি যাচাই করলে যে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে, সে কথাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি। সিপিএম রাজনীতির সংশ্রব ত্যাগ করেছেন। তাই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পার্টি অফিসের চৌহদ্দি মাড়ান না। তবে এখনও তাঁর ফোন নম্বর মুখস্থ জেলা পার্টির সর্বক্ষণের কর্মীদের। শুনে হেসেছেন মাস্টারমশাই। সিপিএম জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়,“গত বছরও উনি সদস্যপদ নবীকরণ করেননি। ফোন করে নিজেরা রিনিউয়াল করে দিয়েছিলাম। এবারও করলেন না।

আমরা কি বারবার রিনিউয়াল করব? শুনে মজিদ মাস্টারের প্রতিক্রিয়া, “তিন বছর আগে জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর থেকে আমাকে যখন বাদ দেওয়া হল, তখনই বুঝেছিলাম আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তাই আর ওমুখো হই না। ১৯৮০ সালে সিপিএমের পার্টি সদস্য পেয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মধে্যই জোনাল কমিটি হয়ে জেলা কমিটির সদস্য। আর তারপরই জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। পার্টি নেতৃত্বে এহেন উল্কাসদৃশ উত্থান ঈর্ষণীয়।
নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন শাসন এলাকার মধ্যে। কিন্তু রাজ্যজুড়ে পরিচিত নাম মজিদ মাস্টার। সঙ্গে বিতর্ক। জীবনে একবারই আলিমুদ্দিনে গিয়েছিলেন । প্রয়াত অমিতাভ নন্দী নিয়ে গিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সঙ্গে দেখা করাতে। সিপিএম সূত্রে খবর, এই উদ্যোগকে মোটেই ভালভাবে নেননি বুদ্ধবাবু। এমন ‘বিতর্কিত’ নেতা আলিমুদ্দিনে কেন? এমন প্রশ্নও উঠেছিল সিপিএমের অন্দরে। আর মজিদ মাস্টারের নিজের কথায়, “এমনটা না হলেও চলত।”

দিনভর এখন বাড়িতে থাকেন। মজিদ মাস্টার বলেছেন, “অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। পেনশনের টাকা দুই ভাই আর মেয়েদের মধে্য ভাগ করে দিই। শাসনে থাকি না। বারাসতের চাঁপাডালিতে ভাইয়ের সংসারে আছি। সকাল—বিকেল লেখাপড়া আর কাগজ পড়ি। ইচ্ছে আছে ডক্টরেট করার। তবে পেনশনের টাকায় কতটা সম্ভব সংশয় আছে। ছেলে সঙ্গে থাকেন না। তাঁর কথায়, “আমার রাজনৈতিক পরিচয়ে ওর সমস্যা হচ্ছিল।” সিপিএম ছেড়েছেন মজিদ মাস্টার কিন্তু ‘বিতর্ক’ পিছু ছাড়েনি।

The post লালঝান্ডা ফেলে এখন হাতে পুঁথি মজিদ মাস্টারের appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার