শাম্মী হুদা: ফাগুনের হিল্লোল তুলে বসন্ত এল শান্তিনিকেতনে। প্রাণমন ছেয়ে সেই বাসন্তী বাতাস ভোরের বৈতালিকে ডানা মেলেছে। গান গেয়ে নগর ভ্রমণ সাঙ্গ করেছে আশ্রমিক ও ছাত্রছাত্রীরা। ভোরের আলো ফোটার আগেই আশ্রম মাঠে ইতিউতি মাথার ভিড়। সবাই জায়গা দখলে ব্যস্ত। কারও হাতে মুঠো আবির। কেউ বা রঙবেরঙের টুপিতে রেঙেছে। শালবিথী-হিজলের ডাল ছুঁয়ে হাতি পুকুরের কোণে পড়ল রোদের আভাস। রবিকবির শান্তিনিকেতনে শুরু হল বসন্ত গুঞ্জন। যেন প্রেম এল গুনগুনিয়ে।
[নিজের বাড়িতেই আয়োজন করে ফেলুন ‘হোলি পার্টি’, রইল টিপস ]
গৌড় প্রাঙ্গণের মুক্ত মঞ্চে রোদ্দুর। কৃষ্ণচূড়ার ডাল ছুঁয়ে ভোরের আলো পাঠভবনের কিশোরীর গালে। এখনই গৃহবাসীর দ্বারে পড়বে করাঘাত। হলুদ শাড়ি আর শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী উত্তরীয়। ফুলের সাজে পাঠভবন, মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালা, সন্তোষ পাঠশালা, শিক্ষাসত্ৰ, বিদ্যাভবন কলাভবন সঙ্গীত ভবন, ভাষা ভবন, শিক্ষা ভবন, বিনয় ভবনের ছাত্রছাত্রীদের মিলিত শোভাযাত্রা দিয়েই শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। বসন্তকে বরণ করতে গুরুদেবের গান আজ দখিন দুয়ার খোলা। নৃত্যানুষ্ঠান যেন বসন্ত বন্দনার প্রতিরূপ। গানে গানে পূর্ণ হয়ে ওঠে শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব। এরপর উপাচার্য সবুজকলি সেনের পায়ে আবির ছুঁইয়ে শুরু হয় বসন্তে রঙিন হওয়ার পালা। বসন্তে এমনিতে রেঙে থাকে শান্তিনিকেতনের প্রকৃতি। হলুদ ও রক্ত পলাশ যেন ফাগের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। যোগ্য সঙ্গত দিতে তৈরি থাকে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, বর্ণময় রঙ্গনের সারি। বাসন্তী রং যেন চুঁয়ে চুঁয়ে পড়ে কৃষ্ণচূড়ার হাত ধরে। হলুদ শাড়ি, সাদা পাঞ্জাবি আর মুঠো মুঠো আবির যেন হৃদয়ে হিল্লোল তোলে। কত প্রেম আজ ভাষা খুঁজে পায়। কত প্রেম পরিণতির দিকে হাঁটি হাঁটি পায়ে এগিয়ে যায়। তা কেবল শান্তিনিকেতনীর মননে বাজে। আম্রকুঞ্জের লাল বেদীতে খেয়ালি বাউলের মেঠো সুর তখন মনের মানুষকে খুঁজছে, তারে ধরি ধরি মনে করি …। সূর্য ততক্ষণে পাটে বসেছে। অস্ত রাগের আলোয় সাঁওতাল তরুণী ঝলমলিয়ে ওঠে। তাকে যে শান্তিনিকেতনের মেঠো পথ পেরিয়ে অনেকটা যেতে হবে। বাঁধনা পরবের হাত ধরে বসন্ত মিলিয়ে যাচ্ছে গোধূলিতে। সম্পূর্ণ হচ্ছে বৃত্ত। আগামীর আভাস দিয়ে বসন্ত ছাড়ছে মাটি।
[দোলে রং মাখুন আনন্দে, তবে এই বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখবেন]
ভিডিও- ভাস্কর মুখোপাধ্যায়
The post হৃদমাঝারে লাগল পলাশ, মুঠো আবিরে রঙিন শান্তিনিকেতন appeared first on Sangbad Pratidin.
