রাজ্যে নতুন সরকারের মেয়াদ মাত্র ২ মাস। এর মাঝেই শিল্পায়নের পথে আরও এক বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। ডানকুনির পর লাক্স কোজির পর এবার বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
শ্যাম স্টিল কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন এই কারখাানা চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিক অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে বাঁকুড়া ও সংলগ্ন জেলার শিল্প ও আর্থ-সামাজিক দিকটিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
শ্যাম স্টিলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শিল্প-সমৃদ্ধ বাংলা গড়ার ডাক দেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, "কাজের খোঁজে বাংলা ছেড়ে যেতে হবে কেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য আমরা কাজ করব। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে লড়াই করে যাব। আমরা পরিশ্রম করব বাংলার মানুষর জন্য, পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমানোর জন্য। বাংলার গ্যাপ ফিলিংয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে হবে। আগামী ৫ বছরে যে কাজ করে দেখাব, বাংলার মানুষ তা অনুভব করবে। মোট ১৫ হাজার কোটির বিনিয়োগ। ১০ হাজার বিনিয়োগ এমএসএমই-তে। মোট ৭৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে চলেছে এই শিল্পকে কেন্দ্র করে। আমাদের শিল্পসমৃদ্ধ বাংলা গড়তে হবে। ভারতের মধ্যে বাংলাই শ্রেষ্ঠ হবে। তা দেখাতে হবে আমাদের।"
শ্যাম স্টিলের ভিত্তিপ্রস্তর শিলান্যাস অনুষ্ঠানের সূচনা।
শুক্রবার বাঁকুড়ায় শ্যাম স্টিলের সম্প্রসারণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, "সরকারের সঙ্গে যারা একজোট হয়ে কাজ করতে চান, তাদের স্বাগত জানাই।" এরপরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর পরামর্শ, তিনি যেন এই প্ল্যান্টের ভিতরটা এসে একবার ঘুরে দেখে যান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় হিন্দিভাষী দেখলেই বলতেন-বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না। আমি বলছি, বাংলার সংস্কৃতি অটুট আছে। এবার সরকার পরিবর্তন না হলে সব বিনিয়োগ ওড়িশায় চলে যেত। রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বেরলেই পুলিশ হাত পাতত। কীভাবে সিন্ডিকেট চালিয়েছেন এতদিন। বিজেপি সরকার আসতে বাংলা-বাঙালি বেঁচে গেছেন। বিনিয়োগকারীরাও ফিরে আসতে শুরু করেছেন।"
