ব্লকে ব্লকে একাধিক দলীয় কর্মসূচি গ্রহণ ছাড়াও 'জীবিতকে মৃত দেখিয়ে নাম বাদ' ১২ মার্চ তথ্য প্রকাশের কথা ঘোষণা করল তৃণমূল। শনিবার দুপুরে বোলপুরে জেলার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হন আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, বিধানসভার উপাধ্যক্ষ ও জেলা কমিটির চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, সভাধিপতি কাজল শেখ, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, সুদীপ্ত ঘোষ, রবি মুর্মু, বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় এবং বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল। এই বৈঠক থেকেই এদিন এসআইআর ইস্যুতে সরব হোন কোর কমিটির সদস্যরা। জেলায় জীবিত ভোটারকে মৃত দেখানোর অভিযোগ তোলে প্রায় সকলেই। কার্যত ব্লক ধরে ধরে বিস্তারিত রিপোর্ট তুলে ধরার কথা আলোচনায় উঠে আসে। এছাড়াও সাংগঠনিকভাবে কোথাও কোনও দ্বন্দ্ব গোলযোগ মিটিয়ে ফেলতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিন দীর্ঘ সময় রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় জেলায় বহু জীবিত ভোটারকে 'মৃত' দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সমস্ত তথ্য-সহ আগামী ১২ মার্চ আমরা সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করব। বহু জীবিত মানুষকে মৃত বলে ঘোষণা করে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ ভোটার হতে না পারেন, তাহলে একজন নাগরিক হিসেবে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। কেন মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না-এই প্রশ্নই এখন উঠছে।"
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় জেলায় বহু জীবিত ভোটারকে 'মৃত' দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সমস্ত তথ্য-সহ আগামী ১২ মার্চ আমরা সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করব। বহু জীবিত মানুষকে মৃত বলে ঘোষণা করে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ ভোটার হতে না পারেন, তাহলে একজন নাগরিক হিসেবে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। কেন মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না-এই প্রশ্নই এখন উঠছে।"
বলে রাখা প্রয়োজন, এর আগে একাধিক সভায় 'ভূত' হাটিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী ভবানীপুর বিধানসভা এলাকাতেও যে সমস্ত 'বৈধ' ভোটারের নাম বাদ পড়েছে তাদের সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার সে পথে হেঁটেই বীরভূম জেলা নেতৃত্বও বৈধ ভোটার, কিন্তু যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁদের তথ্য প্রকাশ করবে।
অন্যদিকে কোর কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিধানসভা ধরে ধরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যুবসাথী প্রকল্প নিয়েও এপ্রিল মাস থেকে এই প্রকল্পের টাকা আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে যাওয়ার কথা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী রবিবার থেকেই টাকা ঢোকা শুরু হয়েছে। এই বিষয়েও দলের পক্ষ থেকে জেলাজুড়ে প্রচার চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা প্রসঙ্গে কটাক্ষ করেন আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "পরিবর্তন যাত্রা নিয়ে মানুষের কোনও উৎসাহ নেই। সাধারণ মানুষই সেই উৎসাহ নষ্ট করে দিয়েছে। কোথাও ভিড় হচ্ছে না, জমায়েত হচ্ছে না। দুই একজন একাই বক্তৃতা করে চলেছেন।” তবে জেলার বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ সামনে আসায় যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
