জুভেনাইল হোমে নাবালকের আত্মহত্যার চেষ্টা ও পরে হাসপাতালে মৃত্যু! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়িতে। ঘটনায় হোমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ, নিরাপত্তারক্ষীরা কী করছিল? সেই প্রশ্নও উঠেছে। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উপযুক্ত তদন্তের দাবি তুলেছে মৃতের পরিবার।
জলপাইগুড়ি শহরে কোরক নামে একটি জুভেনাইল হোম রয়েছে। সেখানেই ঘটেছে ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মৃতের নাম আরিয়ান রাউত। ছিনতাইয়ের অভিযোগ শুক্রবার রাতে আরিয়ান-সহ দু'জনকে আটক করেছিল কোতোয়ালি থানার পুলিশ। একজনকে পরে থানা থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বছর ১৩ বয়সের আরিয়ানকে হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার সকালে কোরক হোমেই ঘটে যায় ওই ঘটনা। শনিবার সকালে স্নান করতে যাওয়ার নাম করে গলায় গামছা জড়িয়ে 'আত্মহত্যার চেষ্টা' করে জলপাইগুড়ি জুভেনাইল কোরক হোমের আবাসিক ওই কিশোর। হোমের বাকি আবাসিক এবং কর্মীদের তৎপরতায় ওই কিশোরকে উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়। শনিবার রাতেই ওই কিশোর হাসপাতালে মারা যায়। মৃত্যুর খবর শুনেই ক্ষোভ ছড়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
জানা গিয়েছে, কিশোরের বাবা-মা নেই। ঠাকুমার কাছেই থাকে। ঠাকুমা লক্ষ্মী রাউত জানান, একই অপরাধে রাতে দু'জনকে ধরে থানায় নিয়ে এসেছিল পুলিশ। একজনকে রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর প্রশ্ন, কেন তাঁর নাতিকে ছাড়া হল না? এদিকে এই ঘটনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি কোরক হোম কর্তৃপক্ষ। যদিও ঘটনার আলাদা করে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হোমের নিরাপত্তা কোথায়? সেই প্রশ্নও উঠেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও হোম কর্তৃপক্ষ।
