নামের পর এবার স্থান বিভ্রাট। 'রাম' হল 'রীম'। বিজেপির পরিবর্তন জনসভায় শ্রীরামপুরের নাম বিভ্রাট নিয়ে জোর শোরগোল। সোশাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে সমালোচনায় সরব তৃণমূল। যদিও বিজেপির তরফে এই প্রসঙ্গে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
শনিবার শ্রীরামপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা ছিল। জনসভারও আয়োজন করা হয়। তাতে ছিলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি দলীয় অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে রেল প্রকল্পের জমি নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। অশ্বিনী বৈষ্ণবের দাবি, "জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে রেলের কমপক্ষে ১০টি প্রকল্প আটকে রয়েছে। তার মধ্যে তারকেশ্বর থেকে বিষ্ণুপুর এবং নন্দীগ্রাম থেকে দেশপ্রাণ রেল পরিষেবা। রেল প্রকল্পের জন্য মাত্র ২৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বাকি ৭৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও কাঠখড় পুড়িয়ে রেল প্রকল্পের কিছু কাজ করা হয়েছে।"
ওই অনুষ্ঠান মঞ্চের ব্যানার নিয়েই যত গণ্ডগোল। তাতে জায়গার নামের বানান ভুল। শ্রীরামপুরের বদলে লেখা হয়েছে 'শ্রীরীমপুর'। যা নিয়ে সোচ্চার তৃণমূল। সোশাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করে শাসক শিবির বিঁধেছে বিজেপিকে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, 'শ্রীরামপুর হল শ্রীরীমপুর, বিজেপি মানেই অশিক্ষা ভরপুর!'
বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে উঠেছে নাম বিভ্রাটের অভিযোগ। সংসদে দাঁড়িয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে 'বঙ্কিমদা' বলে উল্লেখ করেছিলেন খোদ নরেন্দ্র মোদি। যা নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্যপথের অনুষ্ঠানে মাতঙ্গিনী হাজরা হয়েছিলেন 'মাতাগিনী'। তার ফলে একাধিকবার পদ্মশিবিরের বিরুদ্ধে মনীষীদের অপমানের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার আবার আলিপুরদুয়ারে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় যোগ দিয়ে নাম গুলিয়ে ফেলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে নিশিকান্ত প্রামাণিক বলে উল্লেখ করেন। আবার ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মনের পদবি উচ্চারণ করেন 'বমন' বলে। রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে মসকরার শেষ নেই। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শ্রীরামপুরের জায়গার নাম গণ্ডগোলে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
