৪ মাসের বেশি সময়ের প্রক্রিয়া। স্বপক্ষে-বিপক্ষে একাধিক যুক্তি। রাজনৈতিক টানাপোড়েন। সুপ্রিম হস্তক্ষেপ। অবশেষে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড়ি সংশোধন প্রক্রিয়ার ‘অর্ধসমাপ্ত’ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তাতেই একাধিক অসঙ্গতি। এবার দেখা গেল ভোটার তালিকা থেকে বাদ খোদ জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির বিডিও-র নাম। ঘটনায় তাজ্জব উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক মহল। চাঞ্চল্য স্থানীয়দের মধ্যেও।
নাম বাদ পড়েছে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর। তিনি আলিপুরদুয়ার পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আলিপুরদুয়ার বিধানসভার ভোটার। প্রায় দু'বছর ধরে ময়নাগুড়িতে ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার হিসাবে কর্মরত। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পালন করছেন এইআরও-র ভূমিকা। তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যায় তাঁর নাম বাদ পড়েছে। ঘটনায় বিষ্মিত প্রশাসনিক মহল। তবে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিডিও প্রসেনজিৎ।
এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর।
তবে আলিপুরদুয়ারের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থপ্রতিম ঘোষ বলেন, "এতদিন ধরে প্রশাসনিক পদে থাকার পর বিডিওর নাম বাদ চমকে দেওয়ার মতো বিষয়। নির্বাচন কমিশন তাড়াহুড়ো করে এই কাজ করায় এত অসঙ্গতি। বিডিওর সঙ্গে এইরকম হলে আমজনতার সঙ্গে কী হয়েছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।"
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখ। সেই সময় রাজ্যের মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় নাম বাদ যায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ ভোটারের। ২৮ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল রাজ্যের মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ০৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জনে। কমিশনের দেওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, ফর্ম ৭ অর্থাৎ নাম বাতিলের ফর্ম জমা দেওয়ার পর নাম বাদ গিয়েছে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের। তবে ফর্ম ৬ ও ৬-এতে নতুন করে ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জনের নাম যুক্ত হয়েছে। ফর্ম ৮ নম্বরে যোগ হয়েছে ৬ হাজার ৬৭১ জন।
