সুপ্রিম নির্দেশে 'বিচারাধীন' ভোটারদের নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব এসে পড়েছে বিচারকদের কাঁধে। সেই চাপেই কার্যত ধাক্কা খাচ্ছে বারাসত জেলা আদালতের নিয়মিত বিচারপ্রক্রিয়া। আদালত সূত্রে খবর, বারাসত জেলা আদালতের বিভিন্ন কোর্টের অন্তত ১৫ জন বিচারক বর্তমানে বিধানসভাভিত্তিক নথি যাচাইয়ের কাজে যুক্ত। ফলে ফৌজদারি থেকে দেওয়ানি-একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণে তৈরি হয়েছে জট।
উত্তর ২৪ পরগনায় মোট ৩৩টি বিধানসভা। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বিধানসভার জন্য একজন করে বিচারককে ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সেই হিসেবে এই জেলায় প্রয়োজন ৩৩ জন বিচারক। কিন্তু জেলায় ওই স্তরের বিচারক রয়েছেন মাত্র ১৫-১৭ জন। আদালত সূত্রে খবর, অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জাজ শান্তনু ঝাঁ-সহ অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, সেকেন্ড জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, সিভিল জাজ কোর্টের একাধিক বিচারক এবং অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের মোট ৮ জন বিচারক এখন এই কাজে ব্যস্ত। বিশেষত, এডিজেএম কোর্টগুলিতেই সাধারণত ক্রিমিনাল, মেট্রিমোনিয়াল ও অন্যান্য গুরুতর মামলার শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। সেখানে একসঙ্গে ৮ বিচারক নথি যাচাইয়ে যুক্ত থাকায় মামলার অগ্রগতি থমকে যাচ্ছে বলেই দাবী আইনজীবীদের।
বর্তমানে জরুরি বেল পিটিশন ছাড়া অধিকাংশ মামলায় নিয়মিত শুনানি ব্যাহত হচ্ছে। অন্যান্য কোর্টের বিচারকরা অতিরিক্ত চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও, নিজেদের তালিকা শেষ করে অন্য কোর্টের ঘাটতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে বহু বিচারপ্রার্থীকে নির্ধারিত দিনে আদালতে এসে শুধু পরবর্তী তারিখ নিয়েই ফিরতে হচ্ছে। বারাসত আদালতের আইনজীবী সুশোভন মিত্র জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মোট ১৫ জন বিচারক নথি যাচাইয়ের কাজে যুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট কোর্টগুলিতে বিচারপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটছে।
