বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে লড়াই জমজমাট জঙ্গলমহলে। কুড়মি সমাজে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রকট। জঙ্গলমহলের কুড়মি আন্দোলনকারী তিন নেতা শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ময়দানে নামছেন বলে জল্পনা তুঙ্গে। তাঁরা বিজেপি ও আইএসএফের প্রার্থী হবেন বলে খবর। আর এখানেই ভোট কাটাকাটির অঙ্ক ভিন্ন হতে চলেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় রবিবার কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গের প্রধান উপদেষ্টা তথা শিক্ষক রাজেশ মাহাতো বিজেপিতে যোগদান করেছেন। তাতেই তাঁদের প্রার্থী হওয়ার জল্পনা আরও বেড়েছে।
এদিকে আদিবাসী কুড়মি সমাজের ঘোষিত কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে কুড়মি আন্দোলনকারীরা জঙ্গলমহলে একেবারে বিজেপির কায়দাতেই 'জয় গরাম' রথ বার করছেন। ওই রথ থেকে ঝুমুর গানের মধ্য দিয়ে 'নো ভোট টু টিএমসি' প্রচার চালাতে সমাজমাধ্যমে একটি ঝুমুর গানের ট্রেলার প্রকাশ করা হয়েছে, যা ছড়িয়ে পড়েছে হোয়াটসঅ্যাপেও। ১০ বা ২১ মার্চ থেকে 'জয় গরাম' রথের মাধ্যমে এই ঝুমুর গানের প্রচার চলবে। এই ঝুমুর গানের ট্রেলারে রয়েছে, "ছোটনাগপুর কুড়মি দেশে আমরা ফুল ফুটালি মরা ঘাসে/ঘাসের বাড় দেখে দাদা মাথা ঘুরায় যাছে। এবার ঘাসফুল উজড়াবো দাদা হামদের কুড়মি দেশে।" ওই ট্রেলারে এক ঝলক মূল মানতাকে মিছিলে হাঁটতেও দেখা যাচ্ছে।
রাজেশ মাহাতো, ফাইল চিত্র[/caption]
জঙ্গলমহলের বিভিন্ন কুড়মি সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভবত ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর থেকে ওই শিক্ষক রাজেশ মাহাতো বিজেপির প্রার্থী হবেন। তিনি আগে আদিবাসী কুড়মি সমাজে ছিলেন। সেখান থেকে বার হয়ে কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গ গঠন করেন। এই গোপীল্লভপুর বিধানসভায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কুড়মি জনজাতির বসবাস। সেই ভোট টানতেই বিজেপি দলে টেনে ওই কুড়মি আন্দোলনকারী নেতাকে প্রার্থী করতে চাইছে।
জঙ্গলমহলের বিভিন্ন কুড়মি সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভবত ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর থেকে শিক্ষক রাজেশ মাহাতো বিজেপির প্রার্থী হবেন। তিনি আগে আদিবাসী কুড়মি সমাজে ছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গ গঠন করেন। এই গোপীল্লভপুর বিধানসভায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কুড়মি জনজাতির বসবাস। সেই ভোট টানতেই বিজেপি দলে টেনে ওই কুড়মি আন্দোলনকারী নেতাকে প্রার্থী করতে চাইছে।
একইভাবে পুরুলিয়ার জয়পুর থেকেও এক কুড়মি আন্দোলনকারীকে বঙ্গ বিজেপি প্রার্থী করার চেষ্টা করছে বলে খবর। এই আসনেও প্রায় ৩৩ শতাংশ কুড়মি জনজাতির মানুষ রয়েছেন। অন্যদিকে, জঙ্গলমহলের আরেক কুড়মি আন্দোলনকারী নেতা পুরুলিয়া বিধানসভা আসনে আইএসএফ থেকে প্রার্থী হতে পারেন এমনটাই খবর। এই বিধানসভাতেও একক বৃহত্তম গোষ্ঠী হিসাবে কুড়মি জনজাতির মানুষজন রয়েছেন। জনবিন্যাস অনুযায়ী ২২.৭ শতাংশ কুড়মি মানুষের বসবাস।
আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর কথায়, "কোন কুড়মি আন্দোলনকারী কোন রাজনৈতিক দল থেকে জঙ্গলমহলের আসনগুলিতে ভোটে লড়বেন, তা আমার জানা নেই। কুড়মি আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া মানে কুড়মি আন্দোলনের ক্ষতি।" তবে 'নো ভোট টু টিএমসি'-র ঝুমুর গানের ট্রেলার ও 'জয় গরাম' রথ নিয়ে আদিবাসী কুড়মি সমাজ কিছু জানে না বলেই দাবি তাঁর। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ার কাশিপুর বিধানসভা আসনে গেরুয়া শিবির তাঁদের দলের তরফে কুড়মি জনজাতির কোনও নেতাকে প্রার্থী করবেন। বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি শংকর মাহাতো বলেন, "কে কোন আসনে প্রার্থী হবেন, সেটি দলের উচ্চ নেতৃত্বের বিষয়।"
