সৈকত মাইতি, তমলুক: রহস্যজনকভাবে হস্টেলের মধ্যে এক স্কুল ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল তমলুকে। শুক্রবার রাতে তমলুকের শ্রীরামপুর এলাকার এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজিত জনতা স্কুল ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নবম শ্রেণির ছাত্র সারিফুল গাজি (১৪)। বাবা সাহাদাদ গাজি উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থানার কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা।
[কমিশনের সঙ্গে বিবাদে সর্বদল বৈঠক বয়কট, ফের হাই কোর্টে যাচ্ছে বিজেপি]
সারিফুল তমলুকের শ্রীরামপুর হাই স্কুলের হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত। শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় একপ্রস্থ ঝামেলা হয় সারিফুলের। আর এই অভিযোগেই বন্ধুদের সমনেই হস্টেল সুপার বকাঝকা করেন তাকে। এরপরই অভিমানে হস্টেলে ফিরে যায় ওই ছাত্রটি। এরপর সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ হস্টেলের ঘর থেকেই তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এদিকে হস্টেলের মধ্যেই ছাত্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। উত্তেজিত বাসিন্দারা রাত সাড়ে আটটা নাগাদ স্কুলে চড়াও হন। ভাঙচুরের পাশাপাশি স্কুলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে প্রধান শিক্ষককের রুম, অফিস রুম ও স্কুলের রেকর্ড রুম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ। নিয়ে আসা হয় দমকলের তিনটি ইঞ্জিনও। প্রায় ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে।
এরপর রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ উদ্ধার হয় মৃত ছাত্রের দেহ। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় হস্টেলে থাকা ৩২ জন ছাত্র। তাদের পুলিশ উদ্ধার করে রাতেই তমলুকের একটি হোমে নিয়ে আসে। এদিকে এই ঘটনায় হস্টেল সুপার কালোবরণ জানা ও প্রধান শিক্ষক নবকুমার দাসের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগ জানিয়েছেন মৃত ছাত্রের বাবা শাহজাদ গাজি। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক হস্টেল সুপার। এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নবকুমার দাসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও হস্টেল সুপার ছাত্রদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। আর এর জেরেই এতবড় ঘটনা ঘটেছে। তমলুক মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুরজিৎ মণ্ডল বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
[পঞ্চায়েত ভোট কি ১৩, ১৫ ও ১৭ মে? কমিশনে সর্বদলীয় বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত]
The post হস্টেল সুপারের বকুনিতে আত্মঘাতী পড়ুয়া, প্রতিবাদে স্কুলে তাণ্ডব জনতার appeared first on Sangbad Pratidin.
