শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: বাছুর জমির ধান খেয়ে ফেলেছে। তাই শাস্তি স্বরূপ নবম শ্রেণির ছাত্রীকে নগ্ন করে অত্যাচার করা হল। এমনই অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর পরিবারের বিরুদ্ধে। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি থানার চুড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের রথের হাট গ্রামের এমন ঘটনা শিউরে ওঠার মতোই। ঘটনার দশদিন পরও ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ ছাত্রীর পরিবার।
[বাগঘরার উলটো ছবি পুরুলিয়ায়, কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে হরিণকে রক্ষা স্থানীয়দের]
ঘটনার পর থেকেই অসুস্থ ছাত্রী। লোকলজ্জায় নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখেছে সে। খানিকটা মানসিক ট্রমার মধ্যেও রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ৮ তারিখ দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। ছাত্রীর মা হিমানি রায় জানান, সেই সময় স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই বাইরে ছিলেন। ভাইকে নিয়ে বাড়িতে একাই ছিল মেয়ে। বাড়ির পাশেই মাঠ। গরুর বাছুর বাড়ি আসার জন্য ছটফট করছে দেখে মাঠ থেকে বাছুর আনতে গিয়েছিল মেয়ে। ফেরার পথে হাত থেকে ছুটে গিয়ে প্রতিবেশী নানু বর্মনের ধানের জমিতে ঢুকে পরে বাছুর। হিমানি দেবীর অভিযোগ, বাছুরটিকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে ছিল মেয়ে। সেই সময়ই তাকে ধরে বাছুরের দড়ি দিয়ে বেঁধে বিবস্ত্র করে মারধর শুরু করে প্রতিবেশী নানু ও তার পরিবারের সদস্যরা। লজ্জা ঢাকতে মাটিতে উপুর হয়ে পরে কাতরাতে থাকে মেয়ে। খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করতে গেলে আক্রান্ত হন পরিবারের সদস্যরাও।
কিশোরীর বাবা সুভাষ রায় জানান, আশপাশের মানুষজন ছুটে এসে উদ্ধার করেন মেয়েকে। উদ্ধারের পরই অসুস্থ হয়ে পরে মেয়ে। প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাগুড়ি হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তিনদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরে নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখেছে মেয়ে। অসহায় হিমানি দেবী বলছেন, “কারও সঙ্গে কথা বলে না মেয়ে। সব সময় আতঙ্ক কাজ করছে ওর মনে। মানসিক একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছে।”
[মৎস্যজীবীদের জালে উঠে এল আস্ত কুমির, সেলফির হিড়িক মালদহের গঙ্গাপাড়ের গ্রামে]
ছাত্রীর জেঠা তাপস রায়ের দাবি, ঘটনার দিনই অভিযুক্ত নানু বর্মন ও তার পরিবারের ছয়জনের নামে ময়নাগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ছাত্রীর বাবা বলছেন, ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে মেয়ে। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তদের যাতে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হয় এই দাবি জানাতেই শনিবার পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন তিনি ও পরিবারের অন্যরা। পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে অবশ্য অনেকটাই আশ্বস্ত তাঁরা। পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানান, ঘটনার তদন্ত করে যাতে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায় তার জন্য ময়নাগুড়ি থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
The post বাছুর জমির ধান খাওয়ায় কিশোরীকে নগ্ন করে অত্যাচার, এখনও অধরা অভিযুক্তরা appeared first on Sangbad Pratidin.
