এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়েছে মতুয়া ভোটারদের একাংশের! এবার কি তাহলে বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়া যাবে না? সেই প্রশ্ন মতুয়া সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের ভাবাচ্ছে। আগামিদিনে কী হবে? সেই আশঙ্কাও রয়েছে। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি, একাধিক বার্তার পরও আশঙ্কার মেঘ কাটছে না মতুয়াদের মধ্যে থেকে। এর মধ্যে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ? রবিবার সন্ধ্যাবেলায় আচমকাই বনগাঁর বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করলেন রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমনি অধিকারী। সূত্রের খবর, দুজনের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে একান্ত বৈঠক হয়। এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। বিশেষ করে সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই সাক্ষাৎ কি শুধুই সৌজন্য, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ? তা নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
তবে বৈঠক থেকে বেরিয়ে মুকুটমনি অধিকারী দাবি করেন, তিনি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাতের জন্যই ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন। বিধায়কের কথায়, ''তিন জেনারেশন ধরে আমরা ঠাকুরবাড়িতে আসছি। এর আগেও একাধিকবার এসেছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।'' তবে ভোটের আগে দলবদল প্রসঙ্গে মুকুটমনির দাবি, ''এটা সবটাই সংবাদমাধ্যমের তৈরি। ভোটের সময় কারোর সঙ্গে দেখা হবে না। তাই সাক্ষাৎ করে গেলাম।'' অন্যদিকে তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতার দাবি, এটি নিছকই একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। দলবদল প্রসঙ্গে শান্তনু বলেন, ''ও তো গাড়ি পুজো দিতে এসেছিল। দলবদল নিয়ে কোনও কথা হয়নি।''
ভোটের আগে দলবদল প্রসঙ্গে মুকুটমনির দাবি, ''এটা সবটাই সংবাদমাধ্যমের তৈরি। ভোটের সময় কারোর সঙ্গে দেখা হবে না। তাই সাক্ষাৎ করে গেলাম।'
শনিবার ঠাকুরবাড়িতে মুকুটমনি অধিকারী।
যদিও বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল বিধায়কের বিজেপি সাংসদের সঙ্গে এই একান্ত বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আগামিদিনে এই সাক্ষাৎ বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে ভোটের আগে দলবদল বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। কে কোন শিবির বদল করছে, সেদিকেই নজর থাকে সকলের। গত ২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাণাঘাট দক্ষিণে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন মুকুটমনি। লোকসভা ভোটের আগেই ফুল বদল করে যোগ দেন তৃণমূলে। লোকসভা নির্বাচনে রাণাঘাটে তৃণমূলের প্রার্থী হন। তবে হেরে যান। এরপর তৃণমূলের টিকিটে রাণাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হন।
