প্রোমোটার খুনে জ্বলছে হাওড়ার (Howrah) পিলখানা। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারির দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ স্থানীয়দের। একের পর এক আসবাবে আগুন। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বাইক। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। মৃদু লাঠিচার্জ করা হয় বলেও খবর। এদিকে, এখনও বেপাত্তা দুই দুষ্কৃতী। তাদের গ্রেপ্তারি না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ জারি থাকবে বলেই দাবি স্থানীয়দের।
পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ উত্তেজিত জনতার
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শফিক এলাকায় প্রোমোটারি করে। প্রোমোটিং সংক্রান্ত কোনও বিবাদের জেরেই এলাকার দুই দুষ্কৃতী হারুন খান ও রফাকাত হোসেন ওরফে রোহিত তাদের পরিচিত মহম্মদ শফিককে গুলি করে খুন করেছে। বুধবার মহম্মদ শফিকের দাদা জাহিদ খান বলেন, ‘‘আমার ছোটো ভাই ভালো ছেলে ছিল। এলাকায় প্রোমোটিং করে। দুই দুষ্কৃতী হারুন ও রোহিত আমার ভাইকে আচমকা গুলি করে খুন করলো। কী কারণে খুন হতে হলো ভাইকে তা তদন্ত করে দেখুক পুলিশ।’’
পুলিশ এদিন দ্রুত শফিকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এদিকে ঘটনার পরই উত্তেজিত হয়ে পড়েন পিলখানা এলাকার বাসিন্দারা। দেহ দ্রুত ময়নাতদন্তের পর শফিকের বাড়িতে এলে আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। তাঁরা শফিকের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অভিযুক্ত রোহিত ও হারুনের বাড়ি ভাঙচুর করেন। এমনকী এদিন সন্ধ্যায় হারুনের বাড়ি থেকে যাবতীয় জিনিসপত্র-সহ তার বাইক বাইরে রাস্তায় বার করে নিয়ে এসে তা ফেলে জ্বালিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। পুলিশ বাধা দিতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। ঢুকতে দেওয়া হয়নি দমকলের গাড়িও।পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ। এমনকী শফিকের দেহ নিয়ে অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি তুলে পিলখানার মোড়ে রাস্তা অবরোধও করেন বাসিন্দারা। বুধবার রাত পর্যন্ত দেহ নিয়ে জি টি রোড অবরোধ করে রাখেন বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হন হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তারা।
অন্যদিকে, এদিন ঘটনার পরই ঘটনাস্থলে ও মৃতের পরিবারের কাছে ছুটে যান উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ রুস্তম খান। দোষীদের কড়া শাস্তির দাবিতে এদিন বিধায়ককে ঘিরেও কিছুটা বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। খুনের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে বলে এদিন বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেন বিধায়ক। এদিকে এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানুতোর। উত্তর হাওড়ার বিজেপি নেতা উমেশ রাই অভিযোগ করেন, যে দুই দুষ্কৃতী হারুন ও রোহিত গুলি করে শফিককে খুন করেছে সেই হারুন ও রোহিতকে বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা গিয়েছে। এরা বিধায়কের ঘনিষ্ঠ।
তৃণমূল বিধায়ক অবশ্য বিজেপির তোলা এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘‘বিজেপি যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দিচ্ছে, সেটি ২০২২ সালের। এই ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। সেই যুক্তিতে দেখলে তো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও নীরব মোদি, প্রজ্বল রেভান্না-সহ আরও অনেকের ছবি রয়েছে। আমি জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন জায়গায় আমাকে জনগণের কাছে যেতে হয় ফলে আমার সঙ্গে অনেকেই ছবি তোলে। আমি কী করে বুঝব যারা ছবি তুলছে তাদের মধ্যে দুষ্কৃতী রয়েছে।’’ এদিকে এই ঘটনার খবর করতে গিয়ে এদিন আক্রান্ত হন বৈদ্যুতিন মাধ্যমের এক সাংবাদিক। তাঁকে এলাকার উত্তেজিত বাসিন্দারা মারধর করে বলে অভিযোগ। ওই সাংবাদিককে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত করছে। এই প্রসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানালেন, ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।
