ফের সুন্দরবনের লোকালয়ে বাঘের হানা! শুক্রবার সকালে জঙ্গলের ধারে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় বনদপ্তরের কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে ঝড়খালি এলাকায়। বাঘটিকে ধরার জন্য খাঁচা পাতা হয়েছে বলে খবর। ট্রাঙ্কুলাইজারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এলাকা ঘিরে রেখেছেন বনকর্মীরা।
সুন্দরবনের ঝড়খালি এলাকায় আজ, শুক্রবার ভোররাতে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ লোকালয়ের কাছাকাছি ঢুকে পড়েছে বলে আতঙ্ক ছড়ায়। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি বাঘ ঝড়খালির টাইগার রেসকিউ সেন্টার সংলগ্ন ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে আশ্রয় নিতে দেখা যায়! সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জঙ্গলের ধারে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পায় বলে অভিযোগ। এরপরই খবর দেওয়া হয় বনদপ্তরকে। বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটিকে নিরাপদে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
ভিজেমাটিতে বাঘের পায়ের ছাপ। নিজস্ব চিত্র
ইতিমধ্যে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং খাঁচা ও ট্রাঙ্কুলাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝড়খালির পার্ক চত্বরে পর্যটকদের প্রবেশ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত বাঘটিকে নিরাপদে জঙ্গলে ফেরানো বা আটক করা যাচ্ছে, ততক্ষণ এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েক বছরে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুন বেড়েছে। মাঝে মাঝেই পর্যটকরা বাঘের দেখা পাচ্ছেন, যা একদিকে পর্যটন ব্যবসায়ীদের লাভবান করলেও অন্যদিকে বনজীবন ও স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন সমস্যার সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত মানুষের ভিড় ও শব্দদূষণের কারণে বন্যপ্রাণীরা স্বাভাবিকভাবে জঙ্গলে চলাফেরা করতে পারছে না।
ফলে অনেক সময় বাঘ হিংস্র হয়ে উঠছে বা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এদিকে সুন্দরবনের মৎস্যজীবী ও মধু সংগ্রহকারীদের জীবনও ক্রমশ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। জীবিকার তাগিদে জঙ্গলে ঢুকতে গিয়ে প্রায়ই বাঘের আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বনদপ্তর স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং অপ্রয়োজনে জঙ্গলের ধারে না যাওয়ার আবেদন জানিয়েছে। প্রশাসনের আশা, দ্রুত বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে।
