আন্তঃরাজ্যে প্রায় কোটি টাকার খয়ের কাঠ পাচার রুখল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান (Jaldapara National Park) কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণের কাঠ। পাচারচক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ভিন রাজ্যের চারজন-সহ মোট ৬। এছাড়াও বড় ক্যান্টেনার-সহ গাড়িটিকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়া একটি বিলাসবহুল গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই পাচার চক্রে আর কারা কারা যুক্ত তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সূত্রে জানা গিয়েছে, আনুমানিক ১ কোটি টাকা মূল্যের খয়ের কাঠ পাচার করা হচ্ছে। শুক্রবার ভোররাতে গোপন সূত্রে এই খবর আসে সাউথ রেঞ্জের বনকর্মীদের কাছে। তারপরই তাঁরা অভিযান চালায়। ভোররাত প্রায় তিনটে নাগাদ পুটিমারি এলাকায় ৩১ সি জাতীয় সড়কে প্রচুর খয়ের কাঠ বোঝাই ক্যান্টার আটক করা হয়। ওই ক্যান্টারটিকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়া একটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাজেয়াপ্ত হওয়া গাড়ি। নিজস্ব চিত্র
ধৃতদের নাম যশ পাল (৫৩), মহম্মদ সোহেল (৩১), স্বপন দাস (৩৪), সোহেল রানা (২৪), মনু কুমার (২৫) ও রহিত পাল (২৩)। ধৃতদের মধ্যে রহিত ও যশপাল সম্পর্কে ছেলে ও বাবা। তাঁদের বাড়ি হিমাচলপ্রদেশের সোলান জেলার নলগড় এলাকায়। মনু কুমার বিহারের চুরাট থানার বার্মা গ্রামের বাসিন্দা। সোহেল রানা ও মহম্মদ সোহেলের বাড়ি কোচবিহারের শিতলকুচি এলাকার বাসিন্দা। স্বপন দাসের বাড়ি জলপাইগুড়ি শহরের নতুন পাড়া এলাকায়।
জানা গিয়েছে, উত্তর পূর্ব রাজ্যে বিপুল চাহিদা রয়েছে এই খয়ের কাঠের। বড় কারাখানাগুলিতে এই কাঠ লাগে। পান বানানোর সময় যে খয়ের ব্যবহৃত হয়, তা আসে এই খয়ের কাঠ থেকেই। এছাড়াও বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে এই খয়ের কাঠ। বাজারে রয়েছে বিপুল চাহিদা। এই পাচারকারীরা কোন চক্রের সঙ্গে জড়িত, এর পিছনে আরও কেউ জড়িত কিনা, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
