তৃণমূল জমানায় মহিলা পুলিশ অফিসারকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু তৃণমূলের নেতা হওয়ায় তাঁর কাছে পৌঁছনোও সম্ভব হয়নি! রাজ্যে পালাবদলের পর সেই তৃণমূল নেতাকেই গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম মইদুল ইসলাম খান ওরফে সঞ্জয় খান। রবিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করল আরামবাগ থানা। তাঁর বিরুদ্ধে মারধর-হুমকি, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর একাধিক জায়গায় তৃণমূল নেতা-প্রাক্তন বিধায়করা গ্রেপ্তার হচ্ছেন একাধিক অভিযোগে। ভোট পরবর্তী হিংসা, দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি রেখেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারির কথাও জানিয়েছেন মুখ্মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই প্রায় প্রতিদিন তৃণমূল নেতারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। এবার আরামবাগের তৃণমূল নেতা মইদুল ইসলাম খান গ্রেপ্তার হলেন।
জানা গিয়েছে, ধৃত মইদুল ইসলাম খান ওরফে সঞ্জয় খান তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক ও গোঘাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির বনভূমির কর্মাধ্যক্ষ পদে ছিলেন। ২০২৪ সালে গোঘাট থানার মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ওই মহিলা অফিসারকে আঙুল উঁচিয়ে হুমকি, কলার ধরে ঠেলাঠেলির অভিযোগ উঠেছিল এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনা নিয়ে সেসময় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ওই ঘটনায় মামলা পর্যন্ত দায়ের হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করতে পারেনি পুলিশ। ওই নেতা এলাকায় প্রভাবশালী বলেই পরিচিত ছিলেন তৃণমূল আমলে। তৃণমূল আমলে তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগও ছিল। এবার তোলাবাজি, মারধর, অশান্তি ছড়ানো-সহ একাধিক অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল। আজ, সোমবার তাঁকে আরামবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।
