গ্যাসের যোগান কমে যাওয়ায় (LPG Cylinder Crisis) বিপাকে পড়েছেন লজ, হোটেল ও রিসোর্ট মালিকেরা। সেই সংকট সামাল দিতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জয়পুর জঙ্গলের ধারে একাধিক বেসরকারি রিসর্টগুলি। গ্যাসের বিকল্প হিসাবে এবার ভরসা শুকনো শালপাতা। জঙ্গলে ঝরে পড়া শালপাতা সংগ্রহ করে তা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করে চলছে রান্না। পর্যটননগরী বিষ্ণুপুর ও জয়পুর জঙ্গলে সারাবছরই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। ফলে রিসর্টগুলিতে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ খাবার রান্না করতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক রান্নার গ্যাসের সংকটে বড় সমস্যায় পড়েন রিসর্ট মালিকেরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা জঙ্গলে ঝরে পড়া শালপাতা কিনে এনে রান্নার কাজে ব্যবহার শুরু করেছেন। জানা গিয়েছে, প্রায় ১৩ লক্ষ টাকার শুকনো শালপাতা ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করে রিসর্টে মজুত করা হয়েছে। কয়েক বিঘা জায়গাজুড়ে বস্তা বস্তা করে সেই পাতা রাখা হয়েছে, যা প্রায় একবছরের জন্য ব্যবহার করা যাবে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
পাতা বিক্রি করতে আসা একাধিক মহিলা জানান, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার হচ্ছে। এতে সংসার চালাতে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। গ্যাস সংকটের মধ্যেই তাই জয়পুরে শালপাতা এখন রিসর্টের রান্নাঘরের নতুন ভরসা, পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবিকারও সহায়ক হয়ে উঠেছে।
জয়পুরের রিসর্ট মালিক মহাদেব মণ্ডল জানান, আগে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হত। এখন শালপাতা জ্বালিয়ে ভাত, ডাল, তরকারি, সবজি-সহ বাঙালি বিভিন্ন পদ রান্না করা হচ্ছে। শুধুমাত্র চাইনিজ খাবার তৈরির জন্য দু'টি গ্যাস সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগে জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদেরও আয়ের নতুন পথ খুলেছে। স্থানীয় আদিবাসী মহিলারা জঙ্গল থেকে ঝরে পড়া শালপাতা কুড়িয়ে এনে রিসর্টে বিক্রি করছেন। প্রতি কেজি পাঁচ টাকা দরে সেই পাতা কিনছে রিসর্ট কর্তৃপক্ষ।
পাতা বিক্রি করতে আসা একাধিক মহিলা জানান, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার হচ্ছে। এতে সংসার চালাতে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। গ্যাস সংকটের মধ্যেই তাই জয়পুরে শালপাতা এখন রিসর্টের রান্নাঘরের নতুন ভরসা, পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবিকারও সহায়ক হয়ে উঠেছে।
