আর মাত্র কয়েকমাস পরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে হাবড়ার প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা উসকে দিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। রবিবার হাবড়া বিধানসভা এলাকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধনে যান। হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সামনে দু'টি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুল্যান্স, হাবড়া হাসপাতালে ১টি জেনারেটর ও হাসপাতালে নতুন বিল্ডিংয়ের সামনে হাই মাস্ট লাইট, সিসি ক্যামেরার মনিটর, হাসপাতালে ও স্কুলে স্কুলে সিলিং ফ্যান, লাইট, ঠান্ডা পানীয় জলের মেশিন প্রদান, হাবড়া উদ্বাস্তু প্রাথমিক শিক্ষা নিকেতন স্কুলের সংস্কারের জন্য অর্থ সহযোগিতা প্রদান অনুষ্ঠান ছিল। ওই মঞ্চ থেকে বলেন, "এমনটাও হতে পারে হয়ত আমাকে হাবড়া থেকে অন্যত্র চলে যেতে হবে।" তবে কি দলের অন্দর থেকে তেমনই আভাস পেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক, স্বাভাবিকভাবে উঠছে সে প্রশ্ন।
জ্যোতিপ্রিয় বলেন, "আমি গাইঘাটা থেকে হাবড়ায় প্রার্থী হয়েছিলাম। হয়ত এটাও হতে পারে, হাবড়া থেকে আমাকে অন্যত্র চলে যেতে হবে। সময় সময় এগুলো হয়। গাইঘাটায় আমাদের প্রচুর কাজ হয়েছে। হাবড়াতেও অনেক কাজ হয়েছে। আমি যেই প্রান্তেই থাকি না কেন, আপনাদের সঙ্গে থাকব। অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করব।" সঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারির সুরে তাঁর সংযোজন, "আমি থাকি কি না থাকি, কোনো ব্যবসায়ীর থেকে যেন এক টাকাও চাঁদা না নেওয়া হয়। আমি গাইঘাটাতেও এটা করে দিয়ে এসেছি। চাঁদার প্রয়োজন হলে দলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের পকেটের থেকে টাকা দেবে। কোনও ব্যবসায়ীর সঙ্গে উৎপাত করা যাবে না।" হাবড়ায় তাঁর প্রার্থী না হওয়া নিয়ে জল্পনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, "আমি প্রার্থী হই বা যে-ই প্রার্থী হোক, হাবড়ায় বিপুল ভোটে তৃণমূল প্রার্থী জয়ী হবে। আমি দলের খুব অনুগত সৈনিক। দল যেখানে দাঁড়াতে বলবে সেখানেই প্রার্থী হব।"
আমি গাইঘাটা থেকে হাবড়ায় প্রার্থী হয়েছিলাম। হয়ত এটাও হতে পারে, হাবড়া থেকে আমাকে অন্যত্র চলে যেতে হবে। সময় সময় এগুলো হয়। গাইঘাটায় আমাদের প্রচুর কাজ হয়েছে। হাবড়াতেও অনেক কাজ হয়েছে। আমি যেই প্রান্তেই থাকি না কেন, আপনাদের সঙ্গে থাকব। অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করব।
উল্লেখ্য, বাম আমল থেকেই তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ২০০১ ও ২০০৬ সালে গাইঘাটার বিধায়ক থাকায় পর ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার হাবড়ার বিধায়ক হন তিনি। একইসঙ্গে বাম জমানার পতনের পর ২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে দু'বার খাদ্যমন্ত্রী এবং ২০২১সালে বিধায়ক হয়ে বনমন্ত্রী হয়েছিলেন বালু। সম্প্রতি হাবড়ায় প্রার্থী পরিবর্তনের কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। এনিয়ে বিরোধীরা আবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে তৃণমূল প্রার্থী করবে কিনা তানিয়েও কটাক্ষ শুরু করেছিলে। যদিও বাম আমলের দাপুটে তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় যে প্রার্থী হবেন একথা দলের অন্দরে মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। এমন আবহে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বক্তব্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জোর চাপানউতোর।
