shono
Advertisement

ভেন্ডিং স্টল ভাঙার পর হাওড়া স্টেশনে চরমে পানীয় জলের সংকট

একটু জল পাই কোথায়? The post ভেন্ডিং স্টল ভাঙার পর হাওড়া স্টেশনে চরমে পানীয় জলের সংকট appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 11:21 AM Apr 27, 2018Updated: 06:07 PM Aug 24, 2018

সুব্রত বিশ্বাস: তেষ্টায় মগজের ঘিলু শুকিয়ে উঠল। কিন্তু জল চাই কার কাছে? সুকুমার রায়ের ‘অবাক জলপান’-এর এই কথাগুলি এখন যাত্রীদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কে দেবে জল? রেল? এই ভাবনা থেকে সরে আসছে যাত্রীদের আশা। হাওড়া থেকে ভেন্ডিং স্টল তুলে দেওয়ার পর পানীয় জলের সংকট স্টেশন জুড়ে। ভেন্ডিং স্টলগুলি ভাঙায় পানীয় জলের অভাবের সঙ্গে চা, কফি, বিস্কুট, কেকের অভাবও চরমে। সামান্য খাবার জুটছে না যাত্রীদের। মোক্ষম এই সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০০ হকার দৌরাত্ম্য চালাচ্ছে স্টেশনে। পাশাপাশি রেলের সরবরাহ করা জল আদৌ পরিস্রুত কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, হাওড়া নিউ ও ওল্ড কমপ্লেক্সের উপরে যে সব জলের ট্যাংক রয়েছে তা আদৌ পরিষ্কার করা হয় না। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সূত্রে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, সময়েই চেকিং হয়, করা হয় পরিষ্কার। গঙ্গার জল ফিল্টার করে তবেই পাঠানো হয় কলে।

Advertisement

ভেন্ডিং স্টলগুলি বন্ধ হওয়ায় পানীয় জলের পাশাপাশি, হালকা খাবারের চাহিদা বাড়ায় হকারের সংখ্যা বেড়েছে এক লাফে। খাবারের প্যাকেটে নোংরা হচ্ছে স্টেশনের পরিবেশ। অভাবই জলাঞ্জলি দিয়েছে জলের দাম ও মানকে। এক লিটার জলের দাম ১৫ টাকা। যা বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। দু’লিটার ৪০-৫০ টাকা। পূর্ব রেল জানিয়েছে, কিছুদিন এই সমস্যা হবে। নতুন পলিসি মেনে টেন্ডার দেওয়া হবে। ততদিন একটু সমস্যা হবে। এই সমস্যা এখন সীমাহীন পর্যায়ে এলেও তা সমাধানের কোনও পথ খোলা নেই। এই চাহিদা থাকবেই, জানিয়েছেন রেলকর্মীদের একাংশ। এক শ্রেণির রেলকর্মী রীতিমতো সিন্ডিকেট করে এই ‘জলচক্র’ তৈরি করেছে। জল বিক্রেতা হকাররা পেটি-পেটি জল নিয়ে স্টেশনের অদূরে লাইনের ধারে জমা করে রাখছে। দূরপাল্লার ট্রেনগুলি স্টেশন ছাড়ার পর তার গতি কম থাকার সময়ই সেই জল তুলে দেওয়া হচ্ছে ট্রেনে। তাই দেদার বিকোচ্ছে মোটা দামে।

হাওড়া স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল ১০ নম্বর থেকে ২৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দেদার বিকোচ্ছে নানা কোম্পানির মিনারেল ওয়াটার। নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিটি পিলারের গোড়াতে বাক্সের মধ্যে বরফ দিয়ে বোতল ঠান্ডা করা হচ্ছে। হকাররা তা ট্রেনের কামরায় প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। কুম্ভ, কাঠগোদাম, বিভূতি, জামালপুর প্রতিটি ট্রেনেই যাত্রীরা অতিরিক্ত দাম দিয়ে জল কিনছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দাম দিয়ে হকারদের থেকে জল কিনতে হচ্ছে। হকারদের কথায়, আরপিএফ থেকে নেতা, আয়ের বেশিটাই তাদের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে। শুধু জলই নয়, কেটলিতে করে চা, কফিও বিক্রি করছে হকাররা। বহু পুরনো ভেন্ডিং স্টলগুলি রেল ভাঙলেও বিকল্প ব্যবস্থা না নেওয়ায় হকারের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। ভেন্ডিং স্টলগুলির ভেন্ডররা বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হলেও স্টলগুলি ভাঙাটাকে বেআইনি বলে মনে করেনি ওই সংগঠন। বিজেপি অংসগঠিত শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য নেতা অজয় অগ্নিহোত্রী বলেন, ভেন্ডার উচ্ছেদ বেআইনি না হলেও মানবিকতার সঙ্গে রেল বোর্ডকে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে।

দেখুন ভিডিও:

The post ভেন্ডিং স্টল ভাঙার পর হাওড়া স্টেশনে চরমে পানীয় জলের সংকট appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার