shono
Advertisement
Visva-Bharati

আদালতের নির্দেশ মানছে না বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ! প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তর

২০১৬ ও ২০১৮ সালে  শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা নিয়ে পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে দু'টি মামলা দায় করেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। গত বছরের ২২ অক্টোবর আদালত বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও এখনও পর্যন্ত সেই রিপোর্ট জমা পড়েনি।
Published By: Subhankar PatraPosted: 09:16 PM Jan 27, 2026Updated: 09:16 PM Jan 27, 2026

জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মানেনি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ! আদলতের ভর্ৎসনার পরও কোনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। অভিযোগ তুলে বিশ্বভারতীর আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। মঙ্গলবার বোলপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, "বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে ১ নভেম্বর ২০১৭ থেকেই জাতীয় পরিবেশ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকলেও আজ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ কার্যকর করতে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। ২১ জানুয়ারির শুনানিতে জাতীয় পরিবেশ আদালত কঠোর ও তিরস্কারমূলক মন্তব্য করতে বাধ্য হয়। যা বিশ্বভারতীর সম্মান ও সুনামের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।"

Advertisement

২০১৬ ও ২০১৮ সালে  শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা নিয়ে পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে দু'টি মামলা দায় করেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। পরবর্তীতে মামলাগুলিতে আদালত বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্থায়ী ও পর্যাপ্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দেয়। অভিযোগ, সেই নির্দেশ আজও কার্যকর হয়নি। তারপর বিশ্বভারতী ও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতীয় পরিবেশ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে।

গত বছরের ২২ অক্টোবর আদালত বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও এখনও পর্যন্ত সেই রিপোর্ট জমা পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাসের ভিতরে ও সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের ভিতর ও আশপাশের এলাকায় উৎপন্ন কঠিন ও তরল বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ করে অন্যত্র প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। এ জন্য একটি পরিকল্পিত নকশা তৈরি করে কেন্দ্রীয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনও কার্যকর কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন তাদের উদ্যোগেই বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশনের কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই একটি ডিটেল্ড প্রজেক্ট রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মানচিত্র ধরে ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার রূপরেখা তৈরি হতে চলেছে।

তবে এই বিষয়েই আপত্তি তুলেছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। তাঁর বক্তব্য, “এটি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের কোনও ভূমিকা থাকা উচিত নয়। কেন্দ্রীয় মঞ্জুরি কমিশন কেন বিশ্বভারতীর কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অর্থ মঞ্জুর করবে, সেটিও বোধগম্য নয়। বিশ্বভারতীর নিজস্ব পরিকাঠামো তৈরি করা উচিত এবং বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণ ডাম্পিং গ্রাউন্ডেই হওয়া দরকার। " সুভাষ দত্ত আরও জানান, “ চরম প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয়টি জানিয়েই আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশই দিয়েছে পরিবেশ আদালত।”

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement