বিশ্বভারতীতে গোশালা ইস্যুতে নুতুন করে বিতর্ক। উপাচার্যের সিদ্ধান্তে ছাত্র সংগঠন ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তীব্র প্রতিবাদ। অ্যাকাডেমিক পরিকাঠামো উপেক্ষার অভিযোগ। ল্যাব ও হস্টেল সমস্যা না মিটিয়ে কীভাবে শ্রীনিকেতনে গোশালা নির্মাণ? উঠছে প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক ঘোষণার পরই প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।
বিশ্বভারতীর দাবি, শ্রীনিকেতনে একটি সুপরিকল্পিত গোশালা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। সেখানে গবাদিপশুর জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল ও খাদ্যের ব্যবস্থা থাকবে। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে খোলা চারণভূমিতে রাখা হবে এবং রাতে গোশালায় সংরক্ষিত থাকবে। উৎপন্ন গোবর থেকে বায়োগ্যাস প্রস্তুত করে শ্রীনিকেতন এলাকায় পথবাতি জ্বালানোর পরিকল্পনা। পাশাপাশি গোশালায় উৎপাদিত দুধ পাঠভবনের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বভারতীর দাবি, শ্রীনিকেতনে একটি সুপরিকল্পিত গোশালা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। সেখানে গবাদিপশুর জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল ও খাদ্যের ব্যবস্থা থাকবে।
প্রসঙ্গত, শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো মালিকানাহীন গরুগুলিকেও এই গোশালায় সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেই বিশ্বভারতী দাবি করে। এরপরেই এসএফআই বিশ্বভারতী কমিটি এক বিবৃতিতে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনের সভাপতি অরিত্র ঘোষ ও সম্পাদক বাণ্ডুলি কাহার অভিযোগ করে লেখেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজন ও অ্যাকাডেমিক পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিবর্তে অন্যত্র ব্যয় করার সিদ্ধান্ত ছাত্রস্বার্থবিরোধী এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগে প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। অপর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পাঠ সম্পন্ন করতে হচ্ছে। আবাসিক হস্টেলগুলিতে কক্ষসংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়েছে। হস্টেলের খাবারের মান নিয়েও বহুবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসনের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। একইভাবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত গ্রন্থ, প্রয়োজনীয় অ্যাকাডেমিক উপকরণের অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।’’
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাহুল আচার্য ও শুভদ্বীপ দে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক সমস্যাগুলির সমাধান না করে গোশালা নির্মাণে অর্থব্যয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া সমীচীন নয়। গোশালা নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে প্রয়োজনে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে হাঁটার কথাও তারা উল্লেখ করেছে ছাত্র সংগঠনগুলি। ছাত্রছাত্রীরা জানান, শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বভারতীর ক্রমেই অবনমন ঘটছে। তবে এ বিষয়ে ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাংশ পড়ুয়াদের দাবি, উপাচার্য হস্টেল, স্কলারশিপ, পড়াশোনা, পরিকাঠামোর উন্নতি বাদ দিয়ে গোসালার উন্নতি নিয়ে বেশি ভাবছেন। তবে জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ‘‘গোশালা প্রকল্প বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যের অংশ। অতীতেও গোশালা পরিচালিত হত। নতুন কিছু নয়।’’ তবে বিশ্বভারতীতে গোশালা ইস্যুতে বিতর্ক তীব্রতর হচ্ছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
