আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বামেদের সঙ্গে জোট গড়তে এখনও নিমরাজি কংগ্রেস। তাদের তরফে এখনও মেলেনি আশ্বাসবাণী। আশা-নিরাশার দোলাচলের মধ্যে থেকে জোট নিয়ে বিড়ম্বনা বাড়ছে বাম শিবিরেও। পাশাপাশি বামেরা আদৌ কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করতে চায় কি না, উঠেছে সেই প্রশ্নও। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোট সম্ভাবনা যে ধীরে ধীরে ক্ষীণ হচ্ছে, শনিবার মালদহের জনসভায় সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই মিলল। মহম্মদ সেলিম মালদহ থেকে কংগ্রেস নেতৃত্বকে আক্রমণ শানিয়েছেন। জেলা, প্রদেশ থেকে দিল্লির কংগ্রেস হাইকমান্ড, ত্রিস্তরেই বিঁধেছেন সেলিম। সাফ জানিয়েছেন, প্রদেশ কংগ্রেস যদি ভাবে দিল্লির হাইকম্যান্ড সিদ্ধান্ত নেবে, কোনও দিল্লি-হিল্লি চলবে না।
শনিবারের সভায় সেলিমের বক্তব্য, "যে মই দিয়ে তৃণমূল রাইটার্স বিল্ডিংয়ে উঠেছিল, সেই মইকেই লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে। তার পরেও কংগ্রেসের শিক্ষা হয়নি।" দুই শিবিরই কি একা লড়াই করার কৌশল নিতে চলেছে? সেলিমের জবাব, "বাম আমলে কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, আদিবাসী, সংখ্যালঘু, আমরা সবাই একসঙ্গেই ছিলাম। আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম। তারপর এমনি এমনি লাল ঝান্ডা গেল না। অনেকেই সঙ্গ দিল। কংগ্রেস নিজের কাঁধ দিল ২০১১-তে। সেই কাঁধে ভর দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাইটার্সে উঠলেন। তারপর ওদের ত্যাগ করলেন, রাইটার্সও ছাড়লেন। নবান্নে গেলেন। এখনও যদি ওই কংগ্রেস দলের শিক্ষা না হয়, তবে কবে শিক্ষা হবে আমি জানি না। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মই দিয়ে গাছে ওঠেন, প্রথমে সেই মইকেই লাথি মেরে ফেলে দেন।"
কংগ্রেস নেতৃত্বকে তোপ দেগে সেলিম বলেন, "যদি ওই দলের নেতারা না শোনেন তা হলে আমি ওদের সমর্থকদের উদ্দেশে বলছি, এই জেলার কংগ্রেস নেতাদের উদ্দেশে বলছি, লোকসভা নির্বাচনে এই মালদহ জেলায় কংগ্রেস একটা আসন পেয়েছিল। কারণ, বামেরা তার জন্য জান লড়িয়ে খেটেছিল। বামেরা সমর্থন করেছিল। এখন কংগ্রেসের সবাই নেতা। প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা থেকে দিল্লির নেতা, সবাই ভাবছেন এদিকে গেলে লাভ, না ওদিকে গেলে লাভ। দাঁড়িপাল্লা দিয়ে মাপছেন।" সেলিমের ক্ষোভ, "এটা কোনও শাক-সবজির বাজার না। তৃণমূল, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। আর এই মালদহ জেলা কংগ্রেস ভাবছে তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, প্রদেশ কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেবে। আর প্রদেশ ভাবছে দিল্লি সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে কোনও দিল্লি-হিল্লির সিদ্ধান্ত চলবে না। বাংলাকে বাঁচাতে হবে। সাধারণ মানুষকে এক হয়ে লড়াই করতে হবে।"
সেলিমের ক্ষোভ, "এটা কোনও শাক-সবজির বাজার না। তৃণমূল, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। আর এই মালদহ জেলা কংগ্রেস ভাবছে তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, প্রদেশ কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেবে। আর প্রদেশ ভাবছে দিল্লি সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে কোনও দিল্লি-হিল্লির সিদ্ধান্ত চলবে না। বাংলাকে বাঁচাতে হবে। সাধারণ মানুষকে এক হয়ে লড়াই করতে হবে।"
প্রসঙ্গত, মালদহে সিপিএমের এদিনের সভা ঘিরে জটিলতার সৃষ্টি হয়। হাই কোর্টের বলে দেওয়া জায়গায় সভা না করে শহরের রথবাড়ি মোড়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে সভা করে সিপিএম। তার জেরে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ শহরের রথবাড়ি মোড়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শহরে ঢোকার রাস্তাও। সাধারণ মানুষ থেকে ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। হয়রানির শিকার হতে হয় নিত্যযাত্রীদের।
