এবার শান্তিপূর্ণ ভোটই লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের। আর সেই লক্ষ্যে ভোট শুরুর আগে বাংলার নানা জেলায় ঘুরে ঘুরে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। শুক্রবার বীরভূমের দুবরাজপুরের যশপুর গ্রামে যান। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নির্ভয়ে প্রত্যেক ভোটারকে ভোট দিতে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, বলেন, "আপনারা যেমন ঘুরে ঘুরে দুর্গাপুজো দেখেন, তেমনই নির্ভয়ে বুথে গিয়ে ভোট দেবেন।" তাঁর আশ্বাস, "কোথাও কোনও সমস্যা হলে প্রশাসন আছে। নির্বাচন কমিশন আছে। আমরা দেখে নেব।"
এদিন প্রথমে জেলাশাসক ধবল জৈন, পুলিশ সুপার সূর্যপ্রসাদ যাদব-সহ একাধিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক সারেন মনোজ কুমার। এরপর সিউড়ির সার্কিট হাউসে চলে যান। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর রামপুরহাটেও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভোটকে বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজোর সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন, "আপনারা যেমন ঘুরে ঘুরে দুর্গাপুজো দেখেন, তেমনই নির্ভয়ে বুথে গিয়ে ভোট দেবেন।" তাঁর আশ্বাস, "কোথাও কোনও সমস্যা হলে প্রশাসন আছে। নির্বাচন কমিশন আছে। আমরা দেখে নেব।"
বলে রাখা ভালো, বাংলার ভোটে অশান্তি ঘটে না তা একেবারে বলা যাবে না। বোমাবাজি থেকে খুন – এমন নানা বড় ঘটনার সাক্ষী থাকে বহু জায়গা। একুশের নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। বিশেষত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদহে একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটে। যদিও চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল। ভোট কিংবা ভোট পরবর্তী হিংসায় একজনেরও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ছাব্বিশের নির্বাচনে চব্বিশের সেই ধারা বজায় রাখতে তৎপর নির্বাচন কমিশন। আর সে কারণেই ভোটের কাজে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিকদের একমাত্র কমিশনের নির্দেশমতো কাজ করার কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। কোনও রাজনৈতিক দল কিংবা নেতার নির্দেশে কাজ করলে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া প্রত্যেক পুলিশ সুপারদের কোনও হিংসা দেখলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
