শুক্রবার বাংলায় বসে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগাগোড়া মিথ্যাচারের অভিযোগে পালটা আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বারাসতের কাছারি ময়দানের জনসভা থেকে মমতা বলেন, "ভোটের আগে বলেছিল সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ করে ঢুকবে, পেয়েছেন? এখন এসেছে মিথ্যে কথার ঝুলি নিয়ে। মিথ্যের ফুলঝুড়ি নিয়ে।" অমিত শাহের উদ্দেশে মমতার কটাক্ষ, "এরা কোকিলের মতো ভোটের (West Bengal Assembly Election) সময় আসে, মিথ্যে বলে, ফুরুৎ করে পালিয়ে যায়।"
মমতার অভিযোগ, "রাজস্থান, দিল্লি, অসমে ছেলেমেয়েদের উপর অত্যাচার করছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। লজ্জা করে না! এখন বাংলার মাটিতে এসে বলছে সুনার বাংলা গড়বে। ওদের জিভ টেনে ছিঁড়ে নেওয়া উচিত মানুষের গণতন্ত্রের মাধ্যমে।" বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মমতার আরও বলেন, "দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে। ঠাকুমার ঝুলি নয়, মিথ্যের ফুলঝুড়ি নিয়ে ছুটছে।"
এদিন এসআইআরে নাম বাদের প্রতিবাদে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "এসআইআরে নাম বাদ গেছে ৯০ লক্ষ ভোটারের। তাঁদের মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু। বাকি ৩০ লক্ষ মুসলিম ভোটার। বিজেপির নেশা মানুষের ভোটাধিকার কাড়া। এনআরসি করে ১৯ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছিল অসমে। এখন বাংলায় সেই চেষ্টা চালাচ্ছে। অঙ্কটা ভাল করে বুঝবেন। তোমার বেলায় অধিকার, আমার বেলায় বহিস্কার চলতে পারে না।" এদিন বারাসতে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই সঙ্গে এদিন ফের ইভিএমে কারচুপির অভিযোগে মানুষকে সজাগ থাকার বার্তা দেন তিনি।
গতকাল হলদিয়ায় মোদির মাছ উৎপাদন প্রসঙ্গেও পালটা জবাব দেন মমতা। ব্রিগেডে চিকেন প্যাটিস হকারকে মারধরের প্রসঙ্গ টেনে এদিন মমতা বলেন, "ভোটের পর সব বদলা নেব। খুনের বদলে খুন নয়। আইনত অ্যাকশন নেব।" কটাক্ষের সুরে মমতা জানান, "বাচ্চা ছেলেরা অন্যায় করলে কানমোলা, বকাবকি দেয় মা-বোনেরা। বুড়ো খোকারা যদি এত মানুষের নাম কেটে দেয়, জোর করে ইডি সিবিআই দিয়ে ভোট করায়, তার বদলা নিতে গণতন্ত্রের থাপ্পড় দেবেন।" নাম না করে মোদি-শাহকে 'কানাবাবু' বলে কড়া আক্রমণ মমতার।
