তালা খুলতেই জেলা কংগ্রেস দপ্তরে একেবারে লাঠালাঠি ও রক্তারক্তির ঘটনা! দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে আলিপুরদুয়ার থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। কোনও রকমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন পুলিশ আধিকারিকরা। ঘটনায় দুপক্ষেরই আহত অন্তত পাঁচজন। আহত পাঁচজনকেই স্থানীয় আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ, এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা ও মারধরের অভিযোগ তুলেছে। এই ঘটনায় এদিন আলিপুরদুয়ার শহরে কলেজ হল্ট এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, দ্বিতীয়দফায় আলিপুরদুয়ার বিধান সভার প্রার্থী হিসেবে দলের বর্তমান জেলা সভাপতি মৃন্ময় সরকারের নাম ঘোষণা করে কংগ্রেস। আর তার পরেই দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি শান্তনু দেবনাথের গোষ্ঠী দলের বর্তমান জেলা সভাপতিকে প্রার্থী হিসেবে মানতে চায় নি। প্রার্থী বদলের দাবিতে বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে তালা মেরে দেয় শান্তনু দেবনাথ ও তার গোষ্ঠীর বিক্ষুব্ধ নেতা কর্মীরা। তার পর থেকে জেলা কংগ্রেস কার্যালয় তালা বন্ধই ছিল। কিন্তু রবিবার ছিল প্রয়াত জনপ্রিয় কংগ্রেস নেতা বিশ্বরঞ্জন সরকারের জন্ম দিন। সকাল বেলায় বন্ধ জেলা কংগ্রেসের সামনে বেঞ্চে বিশ্বরঞ্জন সরকারের ফটোতে মালা দিয়ে প্রয়াত নেতার জন্মদিন পালন করেন কংগ্রেস কর্মী শুভ রায়।
ওদিকে জেলা কার্যালয়ের পিছন দিক দিয়ে ঢুকে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ের ভেতরে থাকা প্রয়াত কংগ্রেস নেতা বিশ্বরঞ্জন সরকারের মূর্তিতে মাল্যদান করেন শান্তনু দেবনাথ ও তার গোষ্ঠীর বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মীরা। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সামনে জড়ো হন বিশ্বরঞ্জন সরকারের সমসাময়িক কংগ্রেস নেতা গজেন বর্মন সহ অন্যান্যরা । তারা তালা ভেঙে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে ঢোকেন। ভেতরে ঢুকে প্রয়াত নেতা বিশ্বরঞ্জন সরকারের মূর্তিতে ফুল মালা দেন গজেন বর্মন সহ অন্যান্যরা। জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে পৌঁছান বর্তমান জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা আলিপুরদুয়ার বিধান সভার কংগ্রেস প্রার্থী মৃন্ময় সরকার। আর তার পরেই প্রাক্তন জেলা সভাপতি শান্তনু ও তার গোষ্ঠীর বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মীরা জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে ঢোকে। এর পরেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। বচসা মারামারিতে গড়ালে শুরু হয় লাঠালাঠি। জখম হন শান্তনু দেবনাথ , সঞ্জয় কুমার চৌধুরি-সহ অন্তত পাঁচ জন। তাদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জেলা কংগ্রেসের বর্তমান সভাপতি মৃন্ময় সরকার বলেন, “ এদিন আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় প্রয়াত কংগ্রেস নেতা বিশ্বরঞ্জন সরকারের জন্মদিন। সেই কারণে কিছু বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা-সহ অনেকেই প্রয়াত নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। পরিকল্পিত করে কংগ্রেস নেতা কর্মীদের হামলা করা হয়েছে। এই কাজ অন্যায় হয়েছে। ভোটের সময় এভাবে জেলা কংগ্রেস কার্যালয় তালা বন্ধ রাখা যায় না। জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে কারো বা কোন গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। দল সব দেখছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এই ঘটনার পর দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি শান্তনু দেবনাথ বলেন, “ আমাকে ও আমাদের কর্মীদের লাঠি দিয়ে মারধর করে মাথা মুখ ফাটিয়ে দিয়েছে। গোটা জেলার সব আসনে প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ হচ্ছে। দলটাকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা ঘাম রক্ত দিয়ে সারা বছর দল করি। কংগ্রেস দলকে এভাবে বিক্রি করে দিতে দেব না। “
