shono
Advertisement
WB Assembly Election 2026

গতবার টাই হয়েছিল ম্যাচ! সুকান্তের জেলায় এবার বাড়বে পদ্ম? বালুরঘাট ছিনিয়ে নিতে মরিয়া তৃণমূল

বালুরঘাট-হিলি রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ, বালুরঘাট থেকে একাধিক ট্রেন চালু, বালুরঘাট স্টেশনকে অমৃত ভারত প্রকল্পর আওতায় নিয়ে আসার কথা বিজেপি জোরদার প্রচার করছে। এদিকে, তৃণমূলের তরফে পানীয় জল প্রকল্প থেকে রাস্তাঘাট তৈরির বিষয়ে প্রচার চলছে। এছাড়াও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুব ভাতা থেকে রাজ্য সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্পের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল কর্মীরা।
Published By: Suhrid DasPosted: 07:47 PM Apr 05, 2026Updated: 08:07 PM Apr 05, 2026

বালুরঘাট-হিলি রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ, বালুরঘাট থেকে একাধিক ট্রেন চালু, বালুরঘাট স্টেশনকে অমৃত ভারত প্রকল্পর আওতায় নিয়ে আসার কথা জোরদার প্রচার করছে বিজেপি। এদিকে, তৃণমূলের তরফে পানীয় জল প্রকল্প থেকে রাস্তাঘাট তৈরির বিষয়ে প্রচার চলছে। এছাড়াও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুব ভাতা থেকে রাজ্য সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্পের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল কর্মীরা। বসন্তের সুবাতাস থাকলেও, ভোট রাজনীতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। প্রচার- পালটা প্রচারে প্রতিদিন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার। এই জেলায় বেশিরভাগই হিন্দু ভোটার। কিছু এলাকায় আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কও রয়েছে। 

Advertisement

বালুরঘাট শহরের রাস্তায় এখন রাজনৈতিক পতাকার ভিড়। তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপির পতাকা যেন একে অপরকে টক্কর দিচ্ছে। কেবল পতাকাই নয়, প্রচারেও ঝড় তুলেছে দুই রাজনৈতিক দল। জেলার ৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে তিনটি করে এই দুই দলের দখলে। ফলে এবার লড়াই যেন আরও বেশি। তৃণমূলের এক কর্মী জোর গলায় জানান, এসআইআর করেও বিজেপি কিছু করতে পারবে না। তৃণমূল এবার জেলায় ভালো ফল করবে। মানুষ দিদির সঙ্গে। এদিকে বিজেপি কর্মীর দাবি, তৃণমূলের থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি এবারও যুযুধান দু'পক্ষ। এবারে 'খেলা' ঘুরবে, দুই রাজনৈতিক দলের নেতারাই এই দাবি করছেন। গতবারের ফলাফল বলছে, ম্যাচ ছিল টাই। জেলার ছ'টি বিধানসভা আসনের মধ্যে দুই দলই তিনটি করে আসন নিজেদের দখলে রেখেছে। 

প্রচারে বেরিয়ে দেওয়াল লিখছেন তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব মিত্র। নিজস্ব চিত্র

বালুরঘাট আসনটি এবার ছিনিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অনেকটাই কাটিয়ে বিজেপি মার্জিন বাড়িয়ে বালুরঘাট ধরে রাখতে মরিয়া। বিজেপির সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জোর গলায় দাবি করছেন, জেলায় এবার আরও ভালো ফল করবে বিজেপি৷ আরও বেশি আসনে জিতবে পদ্ম। তবে তৃণমূলের পালটা দাবি, এবার এই জেলায় জোড়া ফুল ফুটবে। মানুষ বিজেপির ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি বুঝে গিয়েছে৷ এসআইআরের বিরুদ্ধে ইভিএম মেশিনে মানুষ তাদের মতামত দেবে।

রাস্তার ধারের চায়ের দোকানে কয়েকজনের জটলা। চায়ের গ্লাসে চুমুকের ফাঁকে নিচু স্বরে রাজনীতির কথাও হচ্ছে৷ কাদের দিকে পাল্লা ভারী? বিজেপি এবার বেশি আসন পাবে? নাকি তৃণমূল এবার খেলা ঘোরাবে? নাম প্রকাশ না করে প্রশ্ন শুনে একজন বলে ওঠেন, "উন্নয়নের নামে কত কিছু হয়। সব দলই উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু আমাদের জীবন একই রয়ে গেল।" নিতান্ত আটপৌরে বাঙালি তাহলে এবার কী ভাবছে? আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফায় এই জেলাতেও ভোট। আর বেশি দেরি নেই। জনসভা থেকে কর্মিসভা, বাড়ি বাড়ি জনসংযোগের পথে হাঁটছেন প্রার্থী, নেতা-কর্মীরা। 

রাজনীতির ইতিবৃত্ত

একসময় সিপিএম ও বাম শরিক দল আরএসপির শক্ত ঘাঁটি ছিল এই জেলা। ভোটব্যাঙ্কের রক্তক্ষরণের কারণে এখন তারা পিছনের সারিতে। তবে ময়দান থেকে লড়াই ছাড়েনি বামেরা। এখনও কিছু অংশের ভোট এই জেলায় তাদের রয়েছে। সেই ভোটাররাও সুইং করলে বড় অদল বদল হতে পারে জেলার রাজনৈতিক ফলাফলে। এমন কথাও মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এক সিপিএম কর্মী জানালেন, "মানুষের মত বদলাবে একসময়। মানুষের চোখ খুলতে আর বেশি সময় নেই।" তাহলে কি সিপিএম এবার এই জেলায় মান বাঁচাতে পারবে? তিনি আর কথা বাড়াতে চাননি। 

এই জেলায় বিধানসভার নিরিখে ছ'টি আসন রয়েছে। কুশমণ্ডি, কুমারগঞ্জ, গঙ্গারামপুর, বালুরঘাট, তপন ও হরিরামপুর। লোকসভায় আসন একটি, বালুরঘাট। উত্তরবঙ্গের নিচের অংশের এই জেলার রাজনৈতিক ছবিও যথেষ্ট টানটান। রাজনৈতিক জমি ধরে রাখতে সব পক্ষই মাটি কামড়ে লড়াই করে এসেছে অতীতে।

এই জেলায় বিধানসভার নিরিখে ছ'টি আসন রয়েছে। কুশমণ্ডি, কুমারগঞ্জ, গঙ্গারামপুর, বালুরঘাট, তপন ও হরিরামপুর। লোকসভায় আসন একটি, বালুরঘাট। উত্তরবঙ্গের নিচের অংশের এই জেলার রাজনৈতিক ছবিও যথেষ্ট টানটান। রাজনৈতিক জমি ধরে রাখতে সব পক্ষই মাটি কামড়ে লড়াই করে এসেছে অতীতে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল হয়। সেবারও এই জেলায় সিপিএম তাদের আসন ধরে রেখেছিল। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনেও সিপিএম তিনটি আসন পেয়েছিল। কংগ্রেসের ঝুলিতে ছিল একটি। তৃণমূল কংগ্রেস দুটি আসনে জয়লাভ করে। তবে পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লাল ক্রমে ফিঁকে হয়ে গেরুয়া হয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট আসন থেকে বিজেপির সুকান্ত মজুমদার জয়ী হয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা একটিও আসন পায়নি। ভোটব্যাঙ্ক বাড়িয়ে বিজেপি তিনটি আসনে জয়ী হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস পায় একটি আসন।

প্রচারে বিজেপি প্রার্থী তপন বুধরাই। নিজস্ব চিত্র

রাজনীতির লড়াই

২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস কুশমণ্ডি, কুমারগঞ্জ ও হরিরামপুর কেন্দ্রটি জিতেছিল। অন্যদিকে বালুরঘাট, তপন ও গঙ্গারামপুর এই তিনটি আসনে ফুটেছিল পদ্মফুল। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বালুরঘাট আসনটি জিতেছিল। কিন্তু ২০১৯ ও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে দু'বারই সুকান্ত মজুমদার বড় ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে দিল্লি গিয়েছেন।

জেলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির হেভিওয়েট মুখ রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিপ্লব মিত্র এবারও লড়াই করছেন। নাট্যকার অর্পিতা ঘোষকে আবারও এই জেলায় ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। একসময় তিনি বালুরঘাটের সাংসদ ছিলেন। এবার বালুরঘাট বিধানসভা আসন থেকেই তিনি জোড়া ফুল প্রতীকে ভোটে লড়ছেন। দক্ষিণ দিনাজপুর বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের জেলা। তিনি জেলার বর্তমান সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। ফলে রাজনৈতিক প্রভাবও বিধানসভা নির্বাচনে যথেষ্ট ছাপ ফেলবে। এমনই মনে করছে রাজনীতির একটা অংশ।

ময়দানে হাড্ডাহাড্ডি...

২০১৯ সাল থেকেই এই জেলায় ভোটের রাজনীতিতে তৃণমূল-বিজেপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। বিধানসভা আসন বিন্যাসে তিনটি করে দু'টি দলই জিতে রয়েছে। এবারের নির্বাচনে কারা শেষ হাসি হাসবে? নিজেদের আসন কি ধরে রাখতে পারবে তারা? নাকি আরও বেশি আসনে জয়লাভ করে এগিয়ে যাবে? 

রাজনৈতিক মহল বলছে ২০২১ সালের নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেস জেলায় ৪৬.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৪২.৬৪ শতাংশ ভোট। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সেই ভোটের শতাংশ অনেকটাই বাড়িয়ে ফেলে। গেরুয়া শিবির ৪৮.০৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সেখানে তৃণমূল পায় ৪৪.০৪ শতাংশ ভোট।

রাজনৈতিক মহল বলছে ২০২১ সালের নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেস জেলায় ৪৬.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৪২.৬৪ শতাংশ ভোট। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সেই ভোটের শতাংশ অনেকটাই বাড়িয়ে ফেলে। গেরুয়া শিবির ৪৮.০৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সেখানে তৃণমূল পায় ৪৪.০৪ শতাংশ ভোট। বলা ভালো, কংগ্রেস ও বাম থেকে গেরুয়া শিবিরে লোকসভা নির্বাচনে ভোট গিয়েছে। ২০২৬- এর বিধানসভা নির্বাচনে কি এই ভোট সুইং অব্যাহত থাকবে? নাকি তৃণমূল কংগ্রেস এবার উন্নয়নের প্রচারের মাধ্যমে ভোটব্যাঙ্ককে আরও শক্ত করতে সক্ষম হবে?

তথ্য বলছে, ২১ সালে তপন ও গঙ্গারামপুর আসনটি বিজেপি খুব কম ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল। তপন কেন্দ্রে বুধরাই টুডু মাত্র ১৬৫০ ভোটে জিতেছিলেন। অন্যদিকে গঙ্গারামপুর আসনে বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায় সাড়ে চার হাজারের সামান্য বেশি ভোটে জয়ী হন। লোকসভা নির্বাচনে এই দুই আসনে বিজেপি কিছুটা ভোট বেশি পেয়েছিল। কিন্তু এবার কি এই দুটি আসন তৃণমূল মার্জিন বাড়িয়ে ছিনিয়ে নিতে পারবে? সেই চর্চাও চলছে৷ কারণ, এই আসন দুটি জয়ের জন্য এবার মরিয়া রাজ্যের শাসক দল। 

জনসংযোগে সিপিএমের প্রার্থী বিপ্লব বর্মন।

বালুরঘাট আসলে অশোক লাহিড়ী প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। কিন্তু এবার বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করেনি। তাই নিয়ে দলের মধ্যেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি কর্মীর কথায়, "এটা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাজ করেছেন অশোক লাহিড়ী। এলাকাতেও মানুষের কাছে অনেক পরিচিত। তাঁর প্রভাবও রয়েছে। তাঁকে প্রার্থী না করা বড় ভুল।" তাহলে বিজেপি নিজের ঘরেই ফাউল করল? বালুরঘাটকে ছিনিয়ে আনার জন্য তৃণমূল এবার পুরনো সৈনিক নাট্যকার অর্পিতা ঘোষকে ওই কেন্দ্রের প্রার্থী করেছে। মাঠে নেমে অর্পিতাও এবার জয়ের জন্য যথেষ্ট আশাবাদী। প্রচারেও সময় জানিয়েছেন, মানুষ সাড়া দিচ্ছেন। জেলার এই কেন্দ্র নিয়েও যথেষ্ট চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে।

এবারের ভোটে প্রার্থী কারা

এবার এই জেলায় চতুর্মুখী লড়াই। তৃণমূল, বিজেপি ছাড়াও বাম ও কংগ্রেস প্রতিটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। তবে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেই মূল লড়াই হবে। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক ওঠে। বালুরঘাট কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ। বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন বিদ্যুৎ রায়। আরএসপি প্রার্থী করেছে বাম আমলের কারামন্ত্রী বিশ্বনাথ চৌধুরীর ভাইপো অর্ণব চৌধুরীকে। কংগ্রেসের প্রার্থী প্রদীপকুমার মিত্র। গঙ্গারামপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী গৌতম দাস। সত্যেন্দ্রনাথ রাই বিজেপির প্রার্থী। সিপিএম ও কংগ্রেসের প্রার্থী বিপ্লব বর্মন ও জুঁই বর্মন। তৃণমূলের পরিচিত মুখ বিপ্লব মিত্র হরিরামপুরে প্রার্থী হয়েছেন। ওই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার। 

বালুরঘাট কেন্দ্র নিয়ে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব তীব্র আকার নেয়। সেই দ্বন্দ্ব আলোচনার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব হয়েছে। এমনই দাবি করেছিলেন সুকান্ত মজুমদার-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। কিন্তু একটা অংশ সেই কথা মানতে নারাজ।

জেলায় ভোট ফ্যাক্টর...

উন্নয়ন থেকে বালুরঘাট স্টেশন আধুনিকীকরণ, একাধিক বিষয় এবার সামনে রয়েছে। ভোটের ময়দানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বালুরঘাট কেন্দ্র নিয়ে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব তীব্র আকার নেয়। সেই দ্বন্দ্ব আলোচনার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব হয়েছে। এমনই দাবি করেছিলেন সুকান্ত মজুমদার-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। কিন্তু একটা অংশ সেই কথা মানতে নারাজ।

অশোক লাহিড়ী বালুরঘাট-সহ জেলা বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। অর্থনীতিবিদ তো বটেই, বিজেপির কর্মসূচিতেও তাঁর উপস্থিতি থাকে। মানুষের মধ্যে তাঁকে নিয়ে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এবারের বিধানসভায় নির্বাচনে অশোক লাহিড়ীকে টিকিট দেয়নি বঙ্গ বিজেপি। বরং তার জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে বিদ্যুৎ রায়।
এই বিষয় নিয়ে বালুরঘাটে বিজেপির অন্দরে প্রবল দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। অশোক লাহিড়ী অনুগামীরা ভোটের ময়দানে খুব একটা নামছেন না। সে কোথাও অন্দরের খবর। 

বালুরঘাটে গ্রামে স্থানীয় সভায় তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ। নিজস্ব চিত্র

বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন অংশে গেরুয়া শিবিরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। সাংগঠনিক সমস্যা, প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ প্রবলভাবে ছড়িয়েছে জেলায়। বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তবে নেতৃত্বদের সঙ্গে কথার পর ফের তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কুশমণ্ডিতে প্রার্থী নিয়ে বিবাদ রয়েছে। জেলায় বিজেপির ভোটব্যাঙ্কের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থক বেড়েছে। আদি ও নব্য বিজেপির মধ্যে দ্বন্দ্বও চলছে। প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা দুই পক্ষই করছে। এমনই মত দলের অন্দরে। সুকান্ত মজুমদার জেলার বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি মেরামতির চেষ্টা করেছেন। ওপর ওপর পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক মনে হলেও অন্তত দ্বন্দ্বের চোরা স্রোত ইভিএম মেশিনে দেখা যাবে না তো? সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছেই।

তপন বিধানসভায় কোটি টাকার পানীয় জল পরিষেবা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আর এই জল পরিষেবাকে হাতিয়ার করেই ওই বিধানসভায় ব্যাপক প্রচার তৃণমূল প্রার্থী চিন্তামণি বিহা-র। তাঁর কথায়, গত পাঁচ বছরে এখানকার বিজেপি বিধায়ক সম্পূর্ণ ব্যর্থ। কাজের কোনও খতিয়ান নেই। বিজেপি বিধায়কের ব্যর্থতার পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প এবং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু পানীয় জলকে সামনে রেখেই প্রচার করছি। ব্যাপক সাড়া মিলছে প্রতিটি এলাকায়। 

বালুরঘাট কেন্দ্রে প্রচারে বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুৎ রায়।

সদর শহর বালুরঘাট, সীমান্তবর্তী গ্রাম সহ বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল এবং হিলিতে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্থলপথ এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট রয়েছে। এই কেন্দ্রে রাস্তাঘাট, পানীয় জল-সহ সাধারণ উন্নয়ন তো বটেই, একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গে অত্যাধুনিক এইমস হাসপাতাল তৈরি করার কথা প্রচার করেছে। কিন্তু আদতে হয়নি। চিকিৎসা ব্যবস্থায় বহু মানুষকেই বাইরে যেতে হয়। এবার মেডিক্যাল কলেজ তৈরির বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস জোর প্রচার করছে। তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ জানিয়েছেন, ভোটে জিতে এলে এবার বালুরঘাটে মেডিক্যাল কলেজ হবে। লড়াইয়ে শেষপর্যন্ত কারা জিতবে? কাদের দিকে পাল্লা ভারী হবে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement