shono
Advertisement

Breaking News

Manbazar

আদালতে মেলেনি সুরাহা, মনোনয়নের শেষ দিনে মানবাজারে প্রস্তুত সিপিএমের ডামি প্রার্থী!

এ রাজ্যের জাতিগত শংসাপত্র না থাকায় প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে পুরুলিয়ায় চিন্তায় পড়েছে সিপিএম। সুরাহা পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল দল। বিচারকের রায়ে মনোনয়ন গ্রহণ বা বাতিলের সম্পূর্ণ অধিকার রিটার্নিং অফিসারকে দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পুরুলিয়ার মানবাজার বিধানসভার সিপিএম নেতৃত্ব।
Published By: Kishore GhoshPosted: 10:34 PM Apr 05, 2026Updated: 11:43 PM Apr 05, 2026

এ রাজ্যের জাতিগত শংসাপত্র না থাকায় প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে পুরুলিয়ায় চিন্তায় পড়েছে সিপিএম। সম্প্রতি সুরাহা পেতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল দল। তবে বিচারক তাঁর রায়ে মনোনয়ন গ্রহণ বা বাতিলের সম্পূর্ণ অধিকার রিটার্নিং অফিসারকে দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পুরুলিয়ার মানবাজার বিধানসভার সিপিএম নেতৃত্ব। এই অবস্থায় দলের ঘোষিত প্রার্থীর পাশাপশি সোমবার একজন ডামি প্রার্থীকে দিয়েও মনোনয়ন জমা করাবে বাম দল।

Advertisement

সোনামনি টুডু ওরফে সরেন। ঝাড়খণ্ডে বাপের বাড়ি। বিয়ে হয়ে এসেছেন পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার একেবারে ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা আসনপানি গ্রামে। উচ্চশিক্ষিত, সাবলীল ওই গাঁয়ের বধূকে কুঁচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থী করেছিল দল। নির্বাচনে জয়লাভ করায় গত লোকসভায় ঝাড়গ্রাম লোকসভাতে প্রার্থী করে। তবে ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। বর্তমানে ডিওয়াইএফআই-র রাজ্য সদস্য। স্বচ্ছ, লড়াকু ভাবমূর্তি হওয়ায় দল তাঁকে এবারের বিধানসভায় তফসিলি উপজাতি সংরক্ষিত মানবাজার থেকে প্রার্থী করেছে।

পাশের বিধানসভা থেকে এনে প্রার্থী করায় প্রথম দিকে নিচুতলায় মৃদু অসন্তোষ থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ বিরোধিতা করেনি। যার ফলে দেওয়াল লিখন থেকে গ্রামে গ্রামে ভোট চাইতে চষে বেড়ানো হয়ে গিয়েছে বছর ৩৭-র সোনামনির। তবে সম্প্রতি দল জানতে পারে লোকসভায় ঝাড়খণ্ডের জাতিগত শংসাপত্র জমা করে প্রার্থী হলেও এ রাজ্যের জাতিগত শংসাপত্র না থাকায় বিধানসভায় মনোনয়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তড়িঘড়ি শংসাপত্র জন্য আবেদন করেন প্রার্থী। কিন্তু এত কম সময়ের মধ্যে ওই শংসাপত্র হাতে পাওয়া কার্যত অসম্ভব। এই অবস্থায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সিপিএম প্রার্থী।

শুক্রবার ওই মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে নিযুক্ত আইনজীবী স্পষ্ট করেন, সংশ্লিষ্ট রাজ্যে তফসিলি উপজাতি প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে লড়তে হলে সেই রাজ্যের বৈধ শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। সোনামনির কাছে পশ্চিমবঙ্গের এমন কোনও শংসাপত্র নেই। যাতে তাঁকে এসটি প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। একই যুক্তি দেখিয়েছেন রাজ্যের আইনজীবীও। পাশাপশি তিনি বলেছেন, সোনামনির আবেদনপত্রটি সঠিক ভাবে পূরণ হয়নি। তাছাড়া প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতি রয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর জরুরি ভিত্তিতে রায় দেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও।

নির্দেশে বলা হয়েছে, আবেদনকারিনী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন। তবে তা অনুমোদনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে রিটার্নিং অফিসারের যাচাইয়ের উপরে। যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় নথি পেশ করতে পারলে তবেই তাঁকে সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করা হবে। নচেৎ মনোনয়ন বাতিলও করার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে রিটার্নিং অফিসারের। এই পরিস্থিতিতে সোমবার মনোনয়ন পত্র জমা দেবেন সোনামনি। মঙ্গলবার স্ক্রুটনি। ফলে কোনও ভাবেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না দল।

সূত্রের খবর, সোনামনির পাশাপশি আরেকজন ডামি প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেবেন। সোনামনি টুডুর আবেদন গ্রহণ হলে পরে ওই ডামি প্রার্থী আবেদন প্রত্যাহার করবেন। নচেৎ তাঁকেই প্রার্থী করা হবে। যদিও এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সিপিএমের জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়কে ফোন করা হলেও তিনি কোনও সাড়া দেননি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement