মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের জের! দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে রান্নার গ্যাসের আকাল। যার আঁচ পড়েছে বাংলাতেও। বুকিং করেও সঠিক সময় গ্যাস মিলছে না বলে অভিযোগ উঠছে। ভোটমুখী বাংলাতে গ্যাস নিয়ে চলছে হাহাকার। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রচারে বেরিয়ে সেই ক্ষোভেরই টের পেলেন বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, কিছু যুবক গ্যাস না পাওয়া নিয়ে সরাসরি রুদ্রনীলের কাছে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। প্রচারে বেরিয়ে এমন প্রশ্নে কিছুটা অস্বস্তিতেই পড়ে যান বিজেপি প্রার্থী! মুহূর্তের সেই ভিডিও সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। এই নিয়ে পালটা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে তৃণমূল।
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ একটি গাড়িতে বসে রয়েছেন। আর তাঁকে ঘিরে ধরে কিছু যুবক গ্যাসের অপ্রতুলতা নিয়ে প্রশ্ন করছেন। জানা যায়, এদিন শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা। প্রচারে সেরে ফেরার সময় স্থানীয় বেশ কিছু যুবক তাঁকে গ্যাসের অপ্রতুলতা নিয়ে প্রশ্ন শুরু করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শোনা যায়, এক যুবক সরাসরি রুদ্রনীলকে বলছেন, ‘‘দাদা গ্যাস নেই। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ ভুগছেন। আপনাদের সঙ্গে আমাদের তুলনা হয় না। আপনারা এসি গাড়িতে করে ঘুরছেন আপনারা এই সমস্যা বুঝবেন না। আমরা দিন আনা, দিন খাওয়া খেটে খাওয়া লোক।’’ভিডিওতে রুদ্রনীলকে পাল্টা বলতে শোনা যায়, ‘‘গ্যাস বন্ধ হয়নি। প্রত্যেকের বাড়িতেই রান্না হচ্ছে। আর আমি এসি গাড়িতে ঘুরি না। আমাকেও খেটে কাজ করে খেতে হয়।''
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শোনা যায়, এক যুবক সরাসরি রুদ্রনীলকে বলছেন, ‘‘দাদা গ্যাস নেই। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ ভুগছেন। আপনাদের সঙ্গে আমাদের তুলনা হয় না। আপনারা এসি গাড়িতে করে ঘুরছেন আপনারা এই সমস্যা বুঝবেন না। আমরা দিন আনা, দিন খাওয়া খেটে খাওয়া লোক।’’
ভাইরাল হওয়া ভিডিও'র সত্যতা যাচাই করেনি 'সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল'। তবে ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। ঘটনা প্রসঙ্গে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী চিকিৎসক রানা চট্টোপাধ্যায় বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের হেঁসেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তার জন্যই এখন জনবিস্ফোরণ ঘটছে। এটা ঘটবেই। গ্যাস সিলিন্ডার পিছু ৬০ টাকা বাড়িয়েছে। তাই সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। আমি ওই যুবককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যিনি সাহস করে বিজেপি প্রার্থীর কাছে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।''
শুধু তাই নয়, এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে বাংলার মহিলাদর সুরাহা করে দিচ্ছেন তাও তুলে ধরেন রানা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ''কেন্দ্রীয় সরকার যখন গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে, তখন আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা বাড়িয়ে মহিলাদের কিছুটা সুরাহা করেছেন। এটাই বিজেপির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্থক্য। মানুষ এটা বুঝতে পারছেন বলেই এখন বিজেপির বিরুদ্ধে জনবিস্ফোরণ হচ্ছে।"
