shono
Advertisement
Bengal Election 2026

নির্দলের প্রতীকে রঙিন জঙ্গলমহলের দেওয়াল, কেউ খেলছেন ব্যাট, ক্যারাম বোর্ডে, কেউ আবার কেক হাতে!

রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভোট ভাগের সম্ভাবনাও বেড়েছে। বিশেষ করে নির্দল প্রার্থীদের সহজে মনে থাকার মতো প্রতীক ভোটারদের মনে আলাদা জায়গা করে নিতে পারে। রানিবাঁধের মতো কেন্দ্রে, যেখানে অনেক সময় জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কম থাকে, সেখানে কয়েকশো ভোটের হেরফেরও ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।
Published By: Kousik SinhaPosted: 06:34 PM Apr 19, 2026Updated: 07:45 PM Apr 19, 2026

রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের (Bengal Election 2026) ময়দান যেন খানিকটা খেলার মাঠ, খানিকটা পাড়ার আড্ডা—আর শেষে মিষ্টির দোকান! দেওয়ালে চোখ পড়লেই কখনও ক্রিকেট ব্যাট, কখনও কেরাম বোর্ড, আবার কোথাও কেক—ছয় নির্দল প্রার্থীর বিচিত্র প্রতীকে ভোটের আবহে যেন আলাদা রঙ লেগেছে জঙ্গলমহলের এই কেন্দ্রে।

Advertisement

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এবার রানিবাঁধে লড়াইয়ের ময়দানে মোট ১৩ জন প্রার্থী। মূল লড়াইয়ে রয়েছেন সিপিএম প্রার্থী দেবলীনা হেমরম, বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তনুশ্রী হাঁজদা এবং কংগ্রেস প্রার্থী গৌর পদ সর্দার। পাশাপাশি সমীকরণে রয়েছেন ছয় নির্দল প্রার্থী—গৌর হেমব্রম, সুরজিৎ বাস্কে, গোপাল চন্দ্র কিস্কু, সরস্বতী সর্দার, ফুল চাঁদ হাঁজদা ও বাবুরাম কিস্কু। সব মিলিয়ে প্রার্থীর সংখ্যাই এ বার ভোটের ছবিকে করেছে বহুরঙা। তবে ভোটের মাঠে সবচেয়ে বেশি চর্চা এখন নির্দলদের প্রতীক নিয়েই! গৌর হেমব্রমের প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট—যা দেখে অনেকেই মজা করে বলছেন, “এ বার বুঝি ভোটে ব্যাট ঘুরবে!” সুরজিৎ বাস্কের কেরাম বোর্ডও কম জনপ্রিয় নয়। গ্রামের মোড়ে কেউ কেউ বলছেন, “কেরাম খেলেই যদি ভোট জেতা যেত, তা হলে তো আমরা সবাই প্রার্থী হয়ে যেতাম!”

সবচেয়ে বেশি হাসির খোরাক জুগিয়েছে গোপাল চন্দ্র কিস্কুর ‘কেক’ প্রতীক। এক চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দিতে এক প্রবীণ ভোটারের মন্তব্য, “ভোটের দিনটা যদি কেক কাটার মতো মিষ্টি হতো, তা হলে মন্দ হত না!” অন্যদিকে সরস্বতী সর্দার, ফুল চাঁদ হাঁজদা ও বাবুরাম কিস্কুর প্রতীক নিয়ে এখনও কৌতূহল রয়েছে এলাকায়। তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে জল্পনা, নতুন প্রতীক সামনে এলেই ভোটের দেওয়ালে যোগ হবে আরও এক টুকরো ‘রঙিন ছবি’। রানিবাঁধের গ্রামেগঞ্জে এখন দেওয়াল লিখনই যেন বড় আকর্ষণ। স্কুলের সামনে, হাটের মোড়ে কিংবা বাসস্ট্যান্ডের দেওয়ালে বড় দলগুলির পরিচিত প্রতীকের পাশে এই নতুন প্রতীকগুলো ভোটের ছবিকে করেছে আরও রঙিন। অনেক ভোটারই বলছেন, “দল তো আছেই, কিন্তু এ বার দেওয়াল দেখেই সময় কাটছে—কোথাও খেলা, কোথাও খাবার!”

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভোট ভাগের সম্ভাবনাও বেড়েছে। বিশেষ করে নির্দল প্রার্থীদের সহজে মনে থাকার মতো প্রতীক ভোটারদের মনে আলাদা জায়গা করে নিতে পারে। রানিবাঁধের মতো কেন্দ্রে, যেখানে অনেক সময় জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কম থাকে, সেখানে কয়েকশো ভোটের হেরফেরও ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।

তবে হাসিঠাট্টার মাঝেও রাজনৈতিক অঙ্ক কিন্তু যথেষ্ট গম্ভীর। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভোট ভাগের সম্ভাবনাও বেড়েছে। বিশেষ করে নির্দল প্রার্থীদের সহজে মনে থাকার মতো প্রতীক ভোটারদের মনে আলাদা জায়গা করে নিতে পারে। রানিবাঁধের মতো কেন্দ্রে, যেখানে অনেক সময় জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কম থাকে, সেখানে কয়েকশো ভোটের হেরফেরও ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে। ভোট যত এগোচ্ছে, ততই রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতীকের এই বিচিত্র সমাহার যেন এক আলাদা উৎসবের আবহ তৈরি করছে। বড় দলগুলির প্রচারের কোলাহলের মাঝেও ক্রিকেট ব্যাট, কেরাম বোর্ড আর কেক, এই তিনে মিলে ভোটের লড়াইকে দিয়েছে খানিকটা রস, খানিকটা রহস্য। শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কে ‘ছক্কা’ হাঁকাবে আর কার ভাগে পড়বে ‘মিষ্টি’ ফল—সেই অপেক্ষাতেই এখন রানিবাঁধ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement