কনকনে ঠান্ডা দিনভর কুয়াশায় ঢাকা ভারত-নেপাল সীমান্তের সান্দাকফু। ভারত ও নেপালের সীমান্তে সিঙ্গালিলা রিজের একটি পর্বত শৃঙ্গের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা প্রায় ১২ হাজার ফুট। নেই বিদ্যুৎ, মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক। ওই দুর্গম পাহাড়ে প্রতিকূল আবহাওয়ায় এসআইআর-ফর্ম বাড়িতে পৌঁছে দিতেই রীতিমতো বিপাকে পড়েছিলেন বিএলও-রা। শুধু তাই নয়, সান্দাকফুর মতোই দুর্গম এলাকা ডান্ডা গ্রাম, রাম্মাম গ্রাম, সামানডেন। এই সমস্ত এলাকাতেও এসআইআরের কাজ করা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং ছিল বিএলওদের কাছে। এবার ভোট পরিচালনাও কমিশনের কাছে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। কারণ, বুথ রয়েছে শ্রীখোলায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচু দুর্গম এলাকা। জানা যাচ্ছে, ওই বুথে ভোট করাতে দু’দিন আগেই রওনা হবেন ভোটকর্মীরা। এছাড়াও থাকছে একাধিক পরিকল্পনা।
সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্ক সংলগ্ন এই মনোরম গ্রামটি রিচ নদী অথবা শ্রীখোলা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি ট্রেকারদের কাছে একটি অন্যতম জনপ্রিয় স্টপওভার অর্থাৎ বিশ্রামস্থল। এখানে ভোট কর্মীদেরও পৌঁছাতে ট্রেক করতে হবে। সান্দাকফু, ডান্ডা গ্রাম, রাম্মাম গ্রাম, সামানডেন এখানেই ভোট দিতে নামবেন ভোটদাতারা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পাহাড়ে ভোট পরিস্থিতির উপর নজরদারির জন্য ইতিমধ্যে পাঁচজন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং চারজন হিসাব পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। দার্জিলিংয়ে ১৯৩টি ‘ক্রিটিক্যাল বুথ’ রয়েছে। সেগুলিতে গত বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের ১৫ শতাংশ কম ভোট পড়েছিল। ওই সব ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোটারদের আকর্ষণ বাড়াতে প্রচারে জোর দিয়েছে কমিশন। এ ছাড়াও পাহাড়ে অনেক জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। এই অবস্থায় ওয়েবকাস্টিং নিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় নির্বাচন কমিশনকে।
দার্জিলিংয়ে ১৯৩টি ‘ক্রিটিক্যাল বুথ’ রয়েছে। সেগুলিতে গত বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের ১৫ শতাংশ কম ভোট পড়েছিল। ওই সব ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোটারদের আকর্ষণ বাড়াতে প্রচারে জোর দিয়েছে কমিশন।
যদিও এহেন সমস্যা মেটাতে ওই বুথগুলোর জন্য ভিডিও রেকর্ডিং, স্যাটেলাইট ফোন এবং আরটি সেট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে যেন মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের সমস্যা মেটানো যায় সে জন্য নেটওয়ার্ক অপারেটরের সঙ্গে আলোচনা করছে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক। গত বিধানসভা নির্বাচনে দার্জিলিং জেলায় মহিলা পরিচালিত বুথ অর্থাৎ ‘পিঙ্ক বুথ’-এর ছিল ৩৬টি এবং কালিম্পংয়ে চারটি। এ বার সেটা অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। জেলায় মোট ৩৪টি জায়গায় নাকাতল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ ছাড়াও কুইক রেসপন্স টিম, মোবাইল টহলদারি রাখা হয়েছে।
