shono
Advertisement

দরজায় কড়া নাড়ছে পঞ্চায়েত ভোট, ছক ভেঙে সাদা রইল এই গ্রামের দেওয়াল

ব্যাপারটা কী? The post দরজায় কড়া নাড়ছে পঞ্চায়েত ভোট, ছক ভেঙে সাদা রইল এই গ্রামের দেওয়াল appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 07:30 PM Apr 21, 2018Updated: 09:36 PM Apr 21, 2018

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়াএ যেন উলটপুরাণ। সারা বাংলার গ্রামে-গঞ্জে যেখানে দেওয়াল জুড়ে ভোটের ছবি। সেখানে পুরুলিয়া দু’নম্বর ব্লকের বেলমা গ্রামের দেওয়াল একেবারে ফাঁকা। শুধু কি দেওয়াল? গ্রামে কোনও রাজনৈতিক দলেরই পতাকা নেই। নেই ব্যানারও। ভোট প্রচারই যেন এখানে থমকে গিয়েছে। বলা যায় পঞ্চায়েত ভোটের কোন তাপ-উত্তাপই নেই এই গ্রামে। এই বর্ধিষ্ণু গ্রামে ঢুকলে মনে হবে এ যেন পঞ্চায়েত ভোটের থেকে আলাদা। দলের কর্মীদেরও সেভাবে দেখা নেই। কিন্তু কারণটা কি? শাসকদল তৃণমূলের এই এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েত ও সমিতিতে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। কেউ বলছেন গোঁজ। কেউ আবার বিক্ষুব্ধ। তবে তৃণমূলের টিকিট পেতে আশাবাদী। কিন্তু তা নিশ্চিত নয়। ফলে মনোনয়ন করা দলের নেতা-কর্মীরা তো দূর, এলাকার তৃণমূল নেতৃত্বও কোন দেওয়াল লেখার নির্দেশ দিতে পারেননি। ফলে এই গ্রামে নেই কোনও ঘাস ফুলের চিহ্ন।

Advertisement

[বীরভূমে আক্রান্ত ৬ দলীয় কর্মীকে নিয়ে দিল্লি যাচ্ছে বিজেপি]

তাহলে গেরুয়া শিবিরের হলটা কি? এই গ্রামে যেখানে হু-হু করে বিজেপি বাড়ছে। দলের জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, “আসলে ভোট নিয়ে তো নানা টানাপোড়েন চলছে। তাই কর্মীরা এখনও দেওয়াল লেখেননি।” এদিন গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কোন স্তম্ভেই তৃণমূল, বিজেপি বা সিপিএম, কংগ্রেসের কোনও পতাকা নেই। গতবার এখান থেকে ত্রি-স্তর পঞ্চায়েতে শাসকদল জিতলেও গত বিধানসভায় সিপিএম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী এখানে প্রচুর ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরাও যেন এই গ্রাম থেকে নিশ্চিহ্ন। তবে সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কৃষ্ণপদ বিশ্বাস বলেন, “আসলে এই এলাকায় সুভাষ দেওঘরিয়া আমাদের যে নেতা ছিলেন, তিনি কিছুদিন আগে মারা গিয়েছেন। এই এলাকায় তিনিই মোটামুটি পঞ্চায়েত ভোট পরিচালনা করতেন। অতীতে বেলমা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। তাছাড়া ছিলেন পুরুলিয়া দু’নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষও। তিনি মারা যাওয়াতেই এই অবস্থা। তবে খুব শিগগির ওই গ্রামে আমরা দেওয়াল লেখার কাজ শুরু করব।”

এখানে শাসকদলের জেলা পরিষদের ২০ নম্বর আসনের প্রার্থী হেমন্ত রজক। পঞ্চায়েত সমিতিতে ১২ নম্বর আসন মহিলা হওয়ায় মনোনয়ন করেছেন শাসকদলের তিনজন শিবানী মাহাতো , মঞ্জু মাহাতো ও সোনামণি মাহাতো। দল এবার কোনও প্রার্থী ঘোষণা না করায় এখানে তিনজনই মনোনয়ন জমা করে দিয়েছেন। তাই স্থানীয় নেতৃত্ব বুঝতে পারছেন না শেষমেশ কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে? একইভাবে এখানকার গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪ নম্বর আসন অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। প্রার্থী হয়েছেন বেলমা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বুলেট মাহাতো ও অচিন্ত্য মালাকার। ফলে এই এলাকায় প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় দল দেওয়াল লিখতেই চাইছে না। তবে শনিবার ওই গ্রামে যান জেলা পরিষদের প্রার্থী হেমন্ত রজক। তিনি এই অবস্থা দেখে দলের নেতা-কর্মীদের  দেওয়াল লেখার নির্দেশ দেন। ওই এলাকার ১২ নম্বর বুথের কার্যকরী সভাপতি সীতেশ মাহাতো বলেন, “আসলে সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রার্থী কে হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তাই দেওয়াল লেখার কাজ শুরু করতে পারিনি।”

[ভোটের নির্ঘণ্ট নিয়ে কাটল না ধোঁয়াশা, সোমবার কমিশন-রাজ্য বৈঠক]

ছবি- অমিত সিং দেও

The post দরজায় কড়া নাড়ছে পঞ্চায়েত ভোট, ছক ভেঙে সাদা রইল এই গ্রামের দেওয়াল appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার