সৌরভ মাজি, বর্ধমান: ঘরের মেয়ে আবার প্রার্থী কী হবে। রাজনীতির প্যাঁচে বাড়ির বধূ যাবে না। স্ত্রী রান্নাটা ভাল করে, একদিন খেয়ে যাবেন, কিন্তু ওকে ভোটে দাঁড় করাতে বলবেন না। এক দশক আগেও মহিলা প্রার্থী ঠিক করতে নেতারা বাড়ি এলে এইভাবেই গৃহকর্তা মুখের উপর না বলে দিতেন। তখন পঞ্চায়েত নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল না। গুটিকতক আসনে মহিলাদের দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল। আর সেই হাতেগোনা মহিলা প্রার্থী ঠিক করতেই কালঘাম ছুটত রাজনৈতিক দলগুলোর।
[মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রায়গঞ্জ, বিজেপির মিছিলে চলল গুলি-বোমা]
২০১৮। ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের অর্ধেক আসনই মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। কিন্তু এখন যেন উলটপুরাণ। নেতাদের আর বাড়ি বাড়ি ছুটতে হচ্ছে গৃহকর্তাকে অনুরোধ করতে। বরং এখন ঘরের মহিলাদের প্রার্থী করার জন্য নেতাদের কাছে তদ্বির করছেন গৃহকর্তারাও। এমনকী একটি মহিলা আসনের জন্য একাধিক জন দাবিদার হয়ে উঠছেন। এবারও বিপাকে নেতারা। আগে হন্যে হয়ে খুঁজতে হত। এখন অনেকের মধ্যে একজনকে একটি আসনে চূড়ান্ত করতে গিয়েও সমস্যায়। পূর্ব বর্ধমান জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন সংখ্যা ৩২৩৪টি। তার অর্ধেক অর্থাৎ ১৬১৭টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। তৃণমূল সূত্রের খবর, এই ১৬১৭টি আসনের জন্য কম করে তিন হাজার জন মহিলা প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে আসনের প্রায় দ্বিগুণ মহিলা চাইছেন পঞ্চায়েতের সঙ্গে যুক্ত হতে। একইভাবে পঞ্চায়েত সমিতি বা জেলা পরিষদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও মহিলাদের দ্বিগুণ দাবিদার। শাসকদলের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে মহিলাদের যতটা আগ্রহ, বিরোধীদের ক্ষেত্রে অবশ্য ততটা নয়।
[ভোটের ময়দানে নয়া কৌশল, ‘হই’ দিলেই হাওয়া বিরোধীরা]
কীভাবে ঘটল এমন উলটপুরাণ? তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারীশক্তির বিকাশে যেভাবে পদক্ষেপ করেছেন এটা তারই সুফল। মহিলাদের নিরাপত্তা, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া, শিক্ষার আঙিনায় টেনে আনতে বিশেষ বিশেষ প্রকল্প চালু করা-সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ এইভাবে মহিলাদের আরও বেশি সংখ্যায় রাজনীতির আঙিনায় আসতে অনুপ্রাণিত করেছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, “এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। মহিলারাও যে সমাজের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম শক্তি তা প্রমাণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নে শরিক হতে তাই মহিলারাও আগ্রহী হয়েছেন।” যদিও বিরোধীরা এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না। বিরোধীদের অভিযোগ, পঞ্চায়েতে কী কাজ হয়েছে সবাই জানে। নেতাদের পকেট ভরেছে। তাই কোনও নেতা সংরক্ষণের জেরে টিকিট না পেলে তাঁর আসনে স্ত্রী বা পরিবারের কাউকে দাঁড় করিয়ে কামানোর রাস্তা ঠিক রাখতে চাইছেন।
[আসন ৩৮, দাবিদার ১২৪! প্রার্থী বাছতে মাথায় হাত পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের]
The post ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত হলেও দাবিদার প্রায় দ্বিগুণ, উলটপূরাণ পঞ্চায়েত ভোটে appeared first on Sangbad Pratidin.
