বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকে বড় ধরনের পরিবর্তন করছে তারেক রহমানের সরকার। যার মধ্যে অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে ভারতে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূতের পরিবর্তন। এক বছর দুই মাস নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত থাকা রিয়াজ হামিদুল্লাহকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, হামিদুল্লাহকে পাঠানো হচ্ছে জেনিভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি করে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান বিদেশ সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে পাঠানো হচ্ছে দিল্লিতে। এদিকে সেদেশের নতুন বিদেশ সচিবের দায়িত্ব পাচ্ছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। এই মুহূর্তে জেনিভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আছেন নাহিদা সোবহান। তাঁকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির রেক্টর হিসেবে।
উল্লেখ্য, ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে পাঠানো হয়েছিল। এই সময় থেকেই একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল পড়শি দেশও হয়তো কোনও রাজনীতিবিদকেই দিল্লিতে পাঠাবে। যদিও শেষপর্যন্ত পরিবর্তন করলেও এক কূটনীতিককেই এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। হাসিনা সরকারের পতনের পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেখান থেকে ফের নতুন একটা সম্পর্কের দিকে এগোতে চাইছে দুই দেশ। অতীতে বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে শীতলতা থাকলেও বর্তমান সময়ে অর্থাৎ পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্পর্ক মেরামতিতে উভয়পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে, ইউনুস জমানার ‘হিন্দু বিদ্বেষী’ বদনাম ঘোচাতে তৎপর তারেক রহমান। হিন্দু সন্ন্যাসী ও বাউল-ফকিরদের উপর হামলা, উপাসনাস্থল আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে এবার তদন্তের নির্দেশ দিল ঢাকা হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারেকের পরিবর্তনে সম্পর্কের সেই পরিবর্তন আরও ইতিবাচক গন্তব্যে পৌঁছয় কিনা সেটাই দেখার।
