সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার শাস্তি! প্রৌঢ়া ও এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপির (BJP) কর্মী-সমর্থক ও বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) চন্দ্রকোনায়। ঘটনার পরের দিনই অপমানে আত্মঘাতী হলেন মহিলা। তৃণমূলের দাবি, ওই প্রৌঢ়া তাঁদের দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণেই এই পরিণতি তাঁর। এই ঘটনায় এখনও পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি বলেই খবর।
জানা গিয়েছে, চন্দ্রকোনার বাসিন্দা ওই মহিলার বয়স ৫৫ বছর। স্বামী ও চার মেয়ে-জামাই নিয়ে সংসার তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের (TMC) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপের কাজ করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে দলের এক কর্মীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন ওই মহিলা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বুধবার ওই যুবকের সঙ্গে এই প্রৌঢ়াকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। এরপরই বিজেপির বেশ কয়েকজন ও এলাকাবাসীরা ওই মহিলা ও তাঁর প্রেমিকের উপর চড়াও হয়।
[আরও পড়ুন: পরকীয়া সন্দেহে ‘তালিবানি অত্যাচার’! এক ফোঁটা জলও না দিয়ে ঘরবন্দি করে স্ত্রীকে মার স্বামীর]
অভিযোগ, প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁদেরকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি খানিকটা শান্ত হলে বাড়ি চলে যান নিগৃহীতরা। পরে বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রৌঢ়ার ঝুলন্ত দেহ। অভিযোগ, হেনস্তার কারণে অপমানে এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওই মহিলা। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এবিষয়ে ব্লক তৃণমূল সভাপতি জানিয়েছেন, মৃত প্রৌঢ়া তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই কারণেই বিজেপির তরফে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছিল। তৃণমূলের দাবি, নির্যাতিত যুবককে ভাই বলে ডাকতেন ওই প্রৌঢ়া। রাজনৈতিক স্বার্থে সেই সম্পর্ককে কালিমালিপ্ত করছে বিজেপি। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতারা। তাঁদের কথায়, “এই ঘটনায় বিজেপি কোনওভাবেই জড়িত নয়। অহেতুক বিজেপির বিরুদ্ধে কুৎসা করা হচ্ছে।”