নানা খুঁটিনাটি বিষয়ে স্ত্রীকে সন্দেহ করত। আর সেই সন্দেহ থেকে তাঁর রূপ বিকৃত করতে নৃশংস কাজ করে বসল স্বামী। স্ত্রীর লম্বা চুল কেটে নেড়া করে মাথায় গোবরজল ঢেলে দিয়ে হাতেনাতে গ্রেপ্তার সেনাকর্মী। হাবড়ার কুমড়া খারোবেলের ঘটনায় স্ত্রীর অভিযোগ, এবার ছুটিতে বাড়ি এসে একই সন্দেহে গৃহবধূ পূজা সরকারকে বেধড়ক মারধর করে স্বামী মনোরঞ্জন সরকার। বৃহস্পতিবারের চরম এই অশান্তির সময় কোনওরকমে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে হাবড়া থানায় এসে নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্ত সেনাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃত।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবড়া থানার কুমড়া পঞ্চায়েতের খারোবেলের মাঠ এলাকার বাসিন্দা সেনাকর্মী মনোরঞ্জনের পোস্টিং জয়পুরে। কর্মসূত্রে বাইরে থাকতে হয় বলে সন্দেহের বসে স্ত্রীর উপর নজরদারি চালাতে গোটা বাড়ি এমনকি বেডরুমেও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছিল সে। অভিযোগ, ছুটিতে বাড়িতে এলেও খুঁটিনাটি সন্দেহে স্ত্রী পূজার উপর মনোরঞ্জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। বধূ নির্যাতনের এই ঘটনায় শ্বশুর-শাশুড়িও যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ। স্ত্রীকে দেখতে খারাপ লাগবে বলে লম্বা চুল কেটে গোবরজলও ঢেলে দিয়েছিল স্বামী।
পূজা নিজের বাপেরবাড়িতে গোটা ঘটনা জানলেও সংসারের কথা, দুই সন্তানের কথা ভেবে এতদিন সব সহ্য করেন। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়িতে এসে বৃহস্পতিবার একই বিষয়ে সন্দেহ নিয়ে স্ত্রীকে লাঠি, লোহার রোড দিয়ে স্বামী বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় শ্বশুর, শাশুড়ি-সহ দুই প্রতিবেশী মহিলাও যুক্ত ছিলেন বলেই নির্যাতিতা গৃহবধূর অভিযোগ। কোনও রকমে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে সোজা হাবরা থানার দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা গৃহবধু। তিনি বলেন, "একজন মহিলার কাছে তাঁর লম্বা চুলটা সৌন্দর্যের। অথচ সন্দেহ করে আমার মাথার চুল কেটে নেড়া করে গোবরজল ঢেলে দিয়েছিল। সংসার, সন্তানদের কথা ভেবে, গত ৮ বছর ধরে সহ্য করেই ছিলাম। আমি চাই অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি হোক।" শুক্রবার আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ধৃত সেনাকর্মী অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বাকিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
