Advertisement

ফিরে দেখা ২০১৯: পুলওয়ামা থেকে রাম মন্দির, বছরভর শিরোনামে ছিল যে খবরগুলি

05:16 PM Dec 28, 2019 |
Advertisement
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বছর আসে বছর যায়, প্রতিবছরই তৈরি হয় ছোটবড় হাজারো খবর। এদের মধ্যে কোনওটি তলিয়ে যায় কালের গর্ভে, আবার কোনও খবর চিরন্তন ছাপ রাখে, অমোঘ হয়ে থাকে স্মৃতিতে। বছর শেষে এমনই কিছু খবরে আলোকপাত করছে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল, যেগুলি গোটা বছর ছিল শিরোনামে।

Advertisement

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

পুলওয়ামা হামলা: ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ও ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলা। ১৪ ফেব্রুয়ারি গোটা বিশ্ব যখন প্রেমের দিন হিসেবে পালন করছে, তখনই রক্তাক্ত হয় কাশ্মীরের পুলওয়ামা (2019 Pulwama attack)। সেনা কনভয়ের উপর ফিঁদায়ে হামলায় ৪০ জনেরও বেশি জওয়ান শহিদ হন। পুলওয়ামার সেই নৃশংস স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি ভারতবর্ষ।


বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক: পুলওয়ামা হামলার ২ সপ্তাহ কাটার আগেই বদলা নেয় ভারতীয় সেনা। ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে পাকিস্তানের বালাকোটে (2019 Balakot airstrike) হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনার ১২টি যুদ্ধবিমান। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় জইশ-ই মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার বেশ কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটি।


অসম এনআরসি: ৩১ আগস্ট ২০১৯। অসমে প্রকাশিত হয় এনআরসির (NRC Assam) চূড়ান্ত তালিকা। বাদ যায় ১৯ লক্ষ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষের নাম। ফলে ১৯ লক্ষেরও বেশি মানুষের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৩ কোটি ১১ লক্ষ ২১ হাজার ৪ জন ঠাঁই পান। পরে এই নিয়ে বিস্তর রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলেছে।


৩৭০ ধারা বাতিল: জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল। যা স্বাধীন কাশ্মীর ও ভারতের ইতিহাস এক ঝটকায় বদলে দিয়েছে। ৫ আগস্ট নতুন আইন এনে জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া ৩৭০ ধারা (Article 370 of the Constitution of India) ও সংবিধানের ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিল করে কেন্দ্র। যার জেরে, দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অবরূদ্ধ কাশ্মীর। সে রাজ্যের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতামন্ত্রীদেরও গৃহবন্দি রাখা হয়।


তিন তালাক অপরাধ: ৩০ জুলাই রাজ্যসভায় পাশ হয়ে যায় তিন তালাক বিল(The Muslim Women Protection of Rights on Marriage Bill) । এরপর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর বিলটি আইনে পরিণত হয়। নতুন বিল অনুযায়ী, ১ আগস্ট ২০১৯ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক তিন তালাক শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষিত হয়।


লোকসভা নির্বাচন ২০১৯: সম্ভবত এবছরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা লোকসভা নির্বাচনে (Indian general election, 2019) নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসা। বিরোধী ঐক্য এবং একাধিক ইস্যুতে বারবার কটাক্ষের শিকার হওয়া সত্ত্বেও ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। বিজেপি একাই পায় ৩০৩টি আসন। কার্যত ধূলিস্যাৎ হয়ে যায় বিরোধী শিবির।


চন্দ্রযান ২: সাফল্য, ব্যর্থতার মিশ্রণে ২০১৯ সালের অন্যতম চর্চিত বিষয় চন্দ্রযান ২ (Chandrayaan-2)। গত ২২ জুলাই চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেয় চন্দ্রযান-২। এবং ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের মাটিতে সফট ল্যান্ডিং হওয়ার কথা ছিল চন্দ্রযানের ল্যান্ডার বিক্রমের। কিন্তু, গোটা দেশকে হতাশ করে অবরতণের মাত্র কয়েক সেকেণ্ড আগে বিক্রমের সঙ্গে ইসরোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিক্রমের ল্যান্ডিংয়ের সেই ব্যর্থতা আজও বেদনা দেয় দেশবাসীকে।


অযোধ্যা মামলা: ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শতাব্দীপ্রাচীন রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্কের (Ayodhya dispute) অবসান হয়। আদালত জানিয়ে দেয়, বিতর্কিত জমি হিন্দুদেরই প্রাপ্য। ওই বিতর্কিত স্থানে রাম মন্দির তৈরির জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। এবং মুসলিমদের জন্য বিকল্প ৫ একর জমির ব্যবস্থা করতে হবে। এই রায়কে হিন্দু সংগঠনগুলি স্বাগত জানালেও মুসলিমরা অসন্তোষ প্রকাশ করে। পরে মামলার ১৮টি রিভিউ পিটিশনও দাখিল করা হয়। যা আবার পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্ট খারিজও করে দেয়।


‘মহা’নাটক: মহারাষ্ট্রের মহানাটক! মহানাটকই বলতে হয়। ভোটের (2019 Maharashtra Legislative Assembly election) ফলপ্রকাশ হয় ২৪ অক্টোবর। বিজেপি, শিব সেনা, কংগ্রেস, এনসিপি কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ার জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। বিজেপি-শিব সেনা জোট করে লড়লেও পরে মুখ্যমন্ত্রিত্বের গদি নিয়ে দুই শরিকে ঝামেলা শুরু হয়। ২৩ অক্টোবর শিব সেনাকে ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন দেবেন্দ্র ফড়ণবিস, উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন এনসিপির অজিত পওয়ার। কিন্তু, সেই সরকার স্থায়ী হয়নি। মাত্র ৮০ ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেন উদ্ধব ও অজিত। পালটা জোট বাঁধে শিব সেনা-কংগ্রেস এবং এনসিপি। নতুন জোটের মুখ্যমন্ত্রী হন উদ্ধব ঠাকরে।


সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন: সম্ভবত বছরের সবচেয়ে চর্চিত ইস্যু। এনআরসি আতঙ্কের মধ্যেই ১১ ডিসেম্বর পাশ হয়ে যায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল [Citizenship (Amendment) Act, 2019]। পরে তা রাষ্ট্রপতির সইয়ের পর আইনে পরিণত হয়। এই আইন অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার যে সমস্ত শরণার্থীরা ভারতে এসেছেন তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন এবং পারসি। এই ছটি ধর্ম এর আওতায় আসবে। মুসলিম ধর্ম এর আওতায় আসবে না। বিল পাশ হতেই, একে অসাংবিধানিক ও ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টিকারী বলে তোপ দাগে বিরোধীরা। দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। যার জেরে এখনও উত্তপ্ত গোটা দেশ।

মূল্যবৃদ্ধি: বছরের শেষদিকে দীর্ঘদিন খবরের শিরোনামে ছিল শাকসবজির দাম। বিশেষ করে পিঁয়াজ। পিঁয়াজের ঝাঁজ মধ্যবিত্তর ঘরে রীতিমতো আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। একটা সময় পিঁয়াজ প্রায় ২০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। কেন্দ্রের গঠন করা টাস্ক ফোর্সও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। শেষপর্যন্ত বিদেশ থেকে আমদানি করে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হয় মূল্য।

হায়দরাবাদ ‘হরর’: আরও এক নির্ভয়াকাণ্ড। হায়দরাবাদের শামসাবাদে রাতের অন্ধকারে গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এক পশু চিকিৎসককে। গোটা দেশ কেঁদে ওঠে। দিনকয়েকের মধ্যেই ধরা পড়ে অপরাধীরা। পরে, তাঁদের একাউন্টারে মেরে ফেলে পুলিশ।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

The post ফিরে দেখা ২০১৯: পুলওয়ামা থেকে রাম মন্দির, বছরভর শিরোনামে ছিল যে খবরগুলি appeared first on Sangbad Pratidin.

Advertisement
Next