চাকরির চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে! একের পর এক চাকরির ইন্টারভিউ (Job Interview) দিয়ে চলেছেন, কিছুতেই শিকে ছিঁড়ছে না আপনার ভাগ্যে? অথচ প্রয়োজনীয় স্কিল রয়েছে, ডিগ্রিও রয়েছে ঝুলিতে। কী করা যায় এমন অবস্থায়? কেরিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অজান্তেই মানুষ এমন কিছু ভুল করে চাকরির ইন্টারভিউতে, যার ফলে কর্তৃপক্ষের চোখে উপযুক্ত কর্মী হিসেবে সে নির্বাচিত না। আপনিও এই ৭টি ভুল করছেন না তো?
১। হয়তো যে প্রতিষ্ঠানে আপনি ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছেন, সেটির সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন না। ফলে কোম্পানির ঠিক কেমন কর্মচারী চাই, সে বিষয়টি আপনার কাছে পরিষ্কার হয়নি। যাওয়ার আগে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজখবর করুন। যে জবরোলটির জন্য আবেদন করেছেন, তার সঙ্গে আপনার স্কিল বা ডিগ্রি মেলে কি না, বিচার করে নিন আগেই।
আপনার উত্তর শুনে যদি মনে হয় মুখস্ত বুলি আওড়াচ্ছেন, তবে নেগেটিভ প্রভাব পড়তে পারে প্রশ্নকর্তার মনে
২। উলটোদিক থেকে আসা প্রশ্নটি পুরোপুরি না বুঝে কখনওই উত্তর দেবেন না। সংশয় থাকলে একাধিকবার প্রশ্ন করে বুঝে নিন আপনার কাছ থেকে ঠিক কেমন উত্তর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
৩। কী ধরনের কাজ করেছেন, তা বলার পাশাপাশি নির্দিষ্টভাবে কী কী কাজ করেছেন, কোনও বিশেষ ওয়েবসাইট বা প্ল্যাটফর্মে গেলে সে সম্পর্কে জানা যাবে কি না, তা জানান কর্তৃপক্ষকে। এতে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়।
৪। প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর দিন। যতটুকু জানতে চাওয়া হয়েছে, ততটুকুই বলুন। আপনার উত্তর শুনে যদি মনে হয় মুখস্ত বুলি আওড়াচ্ছেন, তবে নেগেটিভ প্রভাব পড়তে পারে প্রশ্নকর্তার মনে।
৫। অনেক সময়েই আপনি কোন বিষয়ে পারদর্শী নন, তা জানতে চাইতে পারে কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে নিজের দুর্বলতা লুকিয়ে যাওয়ার বদলে, সঠিক শব্দচয়নে তা জানান দিন। এতে আপনি তাঁদের সামনে স্বচ্ছ মানুষ হিসেবে প্রতিপন্ন হবেন।
৬। বুক দুরুদুরু হলেও তা আপনার অভিব্যক্তিতে প্রকাশ হতে দেবেন না! ইন্টারভিউ দিতে বসে হাত কচলাবেন না, পা নাড়াবেন না। এতে আপনাকে আত্মবিশ্বাসহীন বলে মনে হতে পারে।
বুক দুরুদুরু হলেও তা অভিব্যক্তিতে প্রকাশ হতে দেবেন না!
৭। আগে যে কোম্পানিতে কাজ করতেন, তার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করবেন না কখনওই। নতুন কোম্পানির মনে হতে পারে, আপনি যথেষ্ট প্রফেশনাল নন। চাকরি যদি জুটেও যায়, ভবিষ্যৎ উন্নতির ক্ষেত্রে এমন মানসিকতা অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইন্টারভিউতে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে মিথ্যে বলতে হবে, এমনটা একেবারেই নয়। তবে শিখবার মানসিকতা থাকলে চাকরি পাওয়ার পরেও সমস্তটা আয়ত্ত করে নিতে পারবেন আপনি, এই আশ্বাস দেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, কেবল ডিগ্রি নয়। আপনার বাচনভঙ্গি, শরীরী ভাষা, প্রশ্ন অনুধাবন করার দক্ষতা— প্রশ্নকর্তাকে প্রভাবিত করতে প্রয়োজন সবেরই।
