বর্তমান সময়ে কোটি কোটি মানুষ দিন গুজরান করেন বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করে। সেখানে কাজের প্রবল চাপ যেমন, তেমনই প্রতিমুহূর্তে রয়েছে কাজ হারানোর আশঙ্কা। বিনা নোটিসে চাকরিহারা হওয়ার ঘটনাও একেবারেই নতুন হয়। জানেন কি ছাঁটাইয়ের আগেই কিন্তু পূর্বাভাস মেলে। কয়েকটি বিষয়ে নজর দিলেই আপনিও বুঝতে পারবেন তালিকায় আপনার নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না। আগেভাগে বিষয়টা বুঝতে পারলে সমস্যা কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া যায়। তাই চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক কোন পাঁচ কারণে কোম্পানির ছাঁটাইয়ের তালিকায় জুড়ে যায় কর্মীদের।
১. শুনতে খারাপ লাগলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে কর্মীদের সংস্থার আয় বাড়ানোয় সরাসরি কোনও ভূমিকা থাকে না, তারাই প্রথম কোপে পড়েন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আপনার জবরোল ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, সংস্থার পরিসর বৃদ্ধির জন্য আগেভাগেই নতুন টিম তৈরি করা হয়। বাস্তবে প্ল্যানটা হয়তো ফলপ্রসূই হল না। সেক্ষেত্রে চাকরি যেতেই পারে। আবার আপনি মন দিয়ে কাজ করলেও বস সেকথা সঠিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছেন কি না, সেটাও একটা বড় বিষয়। মাথায় রাখবেন, শুধু মন দিয়ে কাজ করলে চাকরি যাবে না, যদি একথা ভেবে থাকেন তাহলে কিন্তু ভুল ভাবছেন। অধিকাংশ বেসরকারি সংস্থায় দেখা যায়, খরচ কমাতে ছাঁটাই করা হয়। যার কোপে পড়েন কর্মঠ কর্মীরাও।
ছবি: সংগৃহীত।
২. হয়তো কোম্পানি যখন বিপুল লাভ করছিল সেই সময় মোটা স্যালারিতে নিয়োগ করা হয়েছিল আপনাকে। সময় পেরলেও আপনি নিজেকে একবিন্দুও আপডেট করেননি, কিন্তু প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধি হয়েছে। সেক্ষেত্রে একটা সময়ের পর ছাঁটাইয়ের তালিকায় আপনার নাম যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই নিজেকে আপডেট করাটা আবশ্যক। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, মালিকপক্ষ বোঝার চেষ্টা করে একজন সিনিয়রের বেতনে ২জন জুনিয়রকে নিয়োগ করে সমান কাজ করানো যায় কি না। যদি ইতিবাচক উত্তর মেলে তাহলেই আপনার সর্বনাশ।
ছবি: সংগৃহীত।
৩. আপনি যতই কাজ করুন না কেন, তা চাউর করতে জানতে হবে। হতেই পারে আপনি অত্যন্ত কর্মঠ, দায়িত্ববান। কিন্তু আপনার ইমিডিয়েট বসের যদি তা মনে না হয়, তাহলে কিন্তু বিপদ অবধারিত।
৪. সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ছে। বর্তমানে কর্মক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয় AI। এই সময়ে দাঁড়িয়ে যদি নিজেকে আপডেট করতে না পারেন তাহলে বিপদ। আপনি যে কাজটি করেন সেটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে যদি করা যায়, সেক্ষেত্রে কিন্তু কাজ হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মনে রাখবেন, কর্মী খারাপ এই যুক্তিতে কখনই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় না সংস্থা।
ছবি: সংগৃহীত।
৫. আপনি কি কোনও কিছু নিয়েই উৎসুক নন? কাজ নিয়ে নিত্য নতুন ভাবনার পথেও হাঁটেন না? তাহলে কিন্তু সাবধান হয়ে যান। এই আচরণ কিন্তু মোটেই ভালো ভাবে নেন না বসেরা। কর্মীর কাজের খিদেই কিন্তু বসের চোখে তাঁর নম্বর বাড়াতে সাহায্য করে।
