সাল ১৯৭১, যে সালটার কথা উঠলে আজও মনের মধ্যে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা। সেই সব আন্দোলনের উত্তাল সময় ও কলকাতার সাতের দশকের পটভূমিতে নির্মিত হয়েছে ওয়েব সিরিজ 'জ্যাজ সিটি'। যেখানে তুলে ধরা হবে সেই সময়ের রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক। ১৯৭১ সালের কলকাতা সেই সময় ঠিক কেমন ছিল? কতটা বদলেছিল মহানগরীর চেহারা? ঠিক কী কী বদল হয়েছিল সেই সব কিছু নিয়েই এই সিরিজ। এক কথায় বলতে গেলে এই সিরিজের মূল প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সালের কলকাতা। সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত হল এই সিরিজের এক প্রচারমূলক অনুষ্ঠান।
ইতিমধ্যেই চলতি মাসে প্রকাশ্যে এসেছে এই সিরিজের ট্রেলার। 'জ্যাজ সিটি'র প্রযোজকের ভূমিকায় অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। পরিচালনায় সৌমিক সেন। মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন আরিফিন শুভ। তাঁর চরিত্রের নাম 'জিমি'। আরিফিনের অভিনয়ের কেরিয়ারে এটিই প্রথম বলিউড প্রোজেক্ট। সোনি লিভের এই সিরিজের গল্প আবর্তিত হয়েছে তাঁকে ঘিরেই। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি ও উর্দু এই চার ভাষাতে মুক্তি পাবে এই সিরিজ। চিত্রনাট্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে, একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মিউজিকেরও। আরিফিন শুভর পাশাপাশি 'জ্যাজ সিটি'তে রয়েছেন সৌরসেনী মৈত্র, শান্তনু ঘটক, সায়নদীপ সেন, শতাফ ফিগার। শ্রেয়া ভট্টাচার্য প্রমুখ। আগামী ১৯ মার্চ এই সিরিজের স্ট্রিমিং শুরু হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতাতেও যথেষ্ট জনপ্রিয় আরিফিন।
এদিন কলকাতায় এই সিরিজের প্রচারে রীতিমতো কলকাতার আবেগে ভাসেন তিনি। আসলে কলকাতায় যখনই আসেন তখনই প্রাণ ভরে গ্রহণ করেন আরিফিন এই শহরের রূপ, রস, গন্ধ। কলকাতার বুকে শপিং থেকে ফুচকা খাওয়া, সিনেমা দেখা সবটাই ভীষণভাবে উপভোগ করেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা। কলকাতা তাঁর কাছে দ্বিতীয় বাড়ি বললেও ভুল হবে না। 'জিমি' চরিত্র নিয়ে আরিফিন বলেন, "জিমি' চরিত্রটা নিয়ে আমার পরিচালক আমাকে ভীষণ সাহায্য করেছেন। তাই 'জিমি রয়' চরিত্রটা পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আমার খুব সুবিধা হয়েছে। ইদের মরশুমে মুক্তি পাচ্ছে আমার এই সিরিজ। আমার মনে হয় আমার নয়, বরং আমার দর্শকের প্রতি স্বয়ং ঈশ্বরের এটি উপহার এটি।" একইসঙ্গে আরিফিন আরও বলেন, "চরিত্রে অনেকগুলো স্তর আছে। একবারে সেই সব কিছু আয়ত্তে আনা সম্ভব ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে আমি সবটাই করেছিলাম। আমি ভীষণ খুশি এমন একটা চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে।"
'জ্যাজ সিটি'র প্রচারে কলকাতায় আরিফিন শুভ, সৌরসেনী মৈত্র। ছবি: কৌশিক দত্ত।
আরিফিনের অভিনয়ের কেরিয়ারে এটিই প্রথম বলিউড প্রোজেক্ট। সোনি লিভের এই সিরিজের গল্প আবর্তিত হয়েছে তাঁকে ঘিরেই। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি ও উর্দু এই চার ভাষাতে মুক্তি পাবে এই সিরিজ। চিত্রনাট্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে, একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মিউজিকেরও।
সিরিজের প্রযোজক অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় ও পরিচালক সৌমিক সেন এদিন কলকাতায় প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে মাতেন কথোপকথনে। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইনকে অর্পিতা বলেন, "আমার এই সিরিজ নিয়ে এতটুকু দুশ্চিন্তা কাজ করছে না। একটা অসাধারণ টিমের সঙ্গে কাজ করেছি। এই সিরিজের প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে কলাকুশলী অনেক সময় ও শ্রম দিয়েছেন পুরো কাজটা নিখুঁতভাবে সকলের সামনে তুলে ধরার জন্য তাঁদের প্রত্যেকের কাছে আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। সত্যি কথা বলতে আমরা 'জিমি' চরিত্রের জন্য বরাবর আরিফিন শুভকেই চেয়েছিলাম। ওকেই শেষ অবধি পেয়েছি। এই সিরিজ একেবারেই গুরুগম্ভীর বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এমনটা নয়, এতে বিনোদনের সমস্ত উপাদান রয়েছে। পুরোদস্তুর বিনোদনের মোড়কেই আমরা এই সিরিজটা দর্শকের দরবারে নিয়ে আসতে চলেছি।" অন্যদিকে পরিচালক বলেন, "দীর্ঘ ছ-সাত বছর এই সিরিজটার জন্য অপেক্ষা করেছি। কারণ যেহেতু এটা ইতিহাসনির্ভর একটা কাজ তাই ইতিহাসের সঙ্গে কোনও আপস করা সম্ভব নয়। তাই এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ নিয়ে অত্যন্ত যত্ন নিয়ে প্রতিটা ধাপ এগিয়েছি। আর একই সঙ্গে এমন একটা কাজের জন্য এমন প্রযোজনা সংস্থার প্রয়োজন ছিল যা এমন একটা প্রোজেক্টের সঠিক মূল্যায়ণ করতে পারবে।"
