বাঙালির হৃদয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে রয়েছে সত্যজিৎ রায়ের 'গুগাবাবা'। তাদের গাওয়া গানে 'আহা ভূত, বাহা ভূত' আজও এক অনাবিল আনন্দের ধারা বইয়ে দেয়। এবার সেই গানেরই ছায়া পড়ল অক্ষয় কুমারের 'ভূত বাংলা'র গানে। 'রাম জি আকে ভালা করেঙ্গে' নামের সেই গান ঘিরে জোর চর্চা। নেটিজেনদের মন্তব্য, এই ব্যবহারে আখেরে সত্যজিৎকেই অবমাননা করা হয়েছে।
অনেকটাই 'ভুলভুলাইয়া' ছবির ধাঁচে এই ছবিটি... প্রাথমিক ভাবে তেমনই মনে হচ্ছে। অর্থাৎ হরর কমেডি ধাঁচেই দর্শকদের মনোরঞ্জন করবে ছবিটি। আর সেই ছবির নতুন গান ঘিরেই বিতর্ক। গান জুড়ে কখনও 'কালা ভূত গোরা ভূত', কখনও 'নর ভূত মাদা ভূত', কখনও বা 'ভাই ভূত বহেনা ভূত/ তোতা ভূত মনা ভূত'- এমনই নানা অনুষঙ্গে সত্যজিতের সৃষ্টিকেই যেন ছুঁয়ে যাওয়া হয়েছে।
'আহা ভূত, বাহা ভূত' আজও এক অনাবিল আনন্দের ধারা বইয়ে দেয়। এবার সেই গানেরই ছায়া পড়ল অক্ষয় কুমারের 'ভূত বাংলা'র গানে।
কিন্তু বিতর্ক ঘনিয়েছে গানটির দৃশ্যায়ন নিয়ে। আপাত ভাবে দৃশ্যটিতে মজা থাকলেও ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ছেলে-বুড়ো সকলের হৃদয়ের কাছাকাছি থাকা গানটির মেজাজকে যেন স্পর্শ করতে পারেননি সুরকার প্রীতম, গীতিকার কুমার। প্রীতম সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, সত্যজিৎকে শ্রদ্ধা জানিয়েই গানটি নির্মাণ করেছেন তিনি। কিন্তু গানটিতে অক্ষয়ের কাঁধে স্বল্পবেশী প্রেতিনীর নাচন কোঁদনের সঙ্গে কি আদৌ সম্পর্ক রয়েছে 'গুপী গাইন বাঘা বাইন'-এর! শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষেত্রে গানটির মেজাজের কথা মাথায় রাখা যেত নাকি? উঠছে প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, আগেই ‘ভূত বাংলা’র মোশন পোস্টার ভাইরাল হয়েছিল সোশাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যায়, এক সিংহাসনে বসে রয়েছেন অক্ষয়। তাঁর চারদিকে ভয়ংকর কয়েকটি মুখাবয়ব। সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত আলো-আঁধারি পরিবেশ তৈরি হয়েছে চারিদিকে। শুধু তাই নয়, এক অদ্ভুত অবতারে দেখা যাচ্ছে অক্ষয়কেও। হাতে-গলায় রুদ্রাক্ষ, চোখে সানগ্লাস পরে এক অদ্ভুত ভঙ্গিমায় সিংহাসনে বসে রয়েছেন ‘খিলাড়ি’। উল্লেখ্য, আগামী ১০ এপ্রিল বড়পর্দায় মুক্তি পাবে বহু প্রতীক্ষিত ‘ভূত বাংলো’। অক্ষয়-প্রিয়দর্শন জুটি এর আগে জখনই পর্দায় ধরা দিয়েছে তখনই কমেডি ভরপুর ছবি উপহার দিয়েছেন সকলকে। সেই তালিকায় রয়েছে ‘ভাগম ভাগ’, ‘ভুলভুলাইয়া’র মতো একাধিক ছবি। এবারেও যে তার ব্যতিক্রম হবে না সে কথা বলাই বাহুল্য। কমেডির মোড়কে আবারও ভৌতিক গল্পই বলবে প্রিয়দর্শনের নতুন ছবি।
