কেসিসি বৈঠকখানায় প্রথমবার এলেন। কেমন লাগল?
- খুব ভালো। এরকম একটা আড্ডা দারুণ ব্যাপার। গেস্ট লিস্ট দেখেছিলাম, যাঁরা আড্ডা দিতে এসেছেন এবং বিষয় যেমন, খুব ভালো লেগেছে। আমার সেশনে প্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অঞ্জন দত্ত এবং চন্দ্রিলদার (ভট্টাচার্য) মতো অসাধারণ বক্তা ছিলেন। ওঁর কথা শুনতেই আনন্দ লাগে। এই দু’জন মানুষের সঙ্গে অনেকখানি সময় কাটালাম। পুরো হল ভর্তি দর্শক-শ্রোতা ছিলেন। অনবদ্য লেগেছে সব মিলিয়ে।
এবারের থিম ছিল সীমানা বা বর্ডার। শব্দটা শুনলে সবচেয়ে বেশি কী মনে হয়?
- রাজনৈতিক অর্থে সীমানাটা আমার মাথায় থাকে না। সীমানা পেরিয়ে যাওয়া কী কী হতে পারে, সেটাই মনে আসে। যেমন– একটা গান হতে পারে, পেন্টিং হতে পারে, একটা ভালো সিনেমা হতে পারে। সারা পৃথিবীতে যার কোনও বাধা নেই।
সীমানার প্রসঙ্গ যখন এল– ক্রস বর্ডার কাজ কি আরও বেশি হতে পারে?
- ব্যক্তিগতভাবে ক্রস বর্ডার কাজ আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। এখন তো পৃথিবীটাই বদলে যাচ্ছে। কোন গল্পগুলো দর্শক দেখতে চায়, নির্মাতারা কোন ধরনের গল্পে কাজ করতে চান, তার ওপরেই নির্ভর করে বেশি। চাহিদা এবং নির্মাণের ওপর নির্ভর করে সবটা। দর্শকরা যদি সীমানা নিয়ে কাজের গল্পে আগ্রহ বোধ করেন, সে হতেই পারে। আমরা তো শুধু অভিনয় করি।
চঞ্চল চৌধুরী। ছবি- সংগৃহীত
পয়লা বৈশাখের ছবি ইত্যাদি দেখে মনে হল, বাংলাদেশ আবার ছন্দে ফিরেছে।
- সবসময়েই বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখের যে উৎসব সারা দেশেই উদযাপিত হয় বেশ আয়োজন করে। এটা খুব সাধারণ চিত্র। আমি চারুকলায় পড়াশোনা করেছি। এখান থেকেই শোভাযাত্রাগুলো বেরয়। সারা ঢাকা শহরের মানুষ বছরের প্রথম দিনে আনন্দ উদযাপনে ভোরবেলা থেকেই অংশ নেয়।
মার্চে বাংলাদেশে রিলিজ করেছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। ছবিটা ট্রেনে শুট করা। হইহই করে চলছে বাংলাদেশে। ছবিটা ইতিহাস তৈরি করল। সতেরো দিনে ৪০০ কোটির ক্লাবে ঢুকে পড়ল।
- (হাসি) শুধু বাংলাদেশ নয়, নর্থ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, দেশের বাইরেও খুব ভালো চলছে। হাউসফুল ছাড়া শো নেই। টিকিট পাচ্ছে না মানুষ। অনেকে ছবিটা দেখতে চেয়ে দেশ-বিদেশ থেকে আমাকে ফোন করেছে। অনলাইনে কাটতে বলেছি, তাদের আগে থেকে।
মোস্তফা সরওয়ার ফারুকির পরিচালনায় ‘টেলিভিশন’-এর অনেকদিন পর আবার আপনি আর মোশাররফ করিম একসঙ্গে কাজ করলেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ।
- হ্যাঁ, ওর সঙ্গে প্রায় এক যুগ পর কাজ করলাম (হাসি)।
কলকাতায় রিলিজ হওয়ার সম্ভাবনা আছে শুনছি।
- হ্যাঁ, সম্ভাবনা অবশ্যই আছে। কারণ, এর সঙ্গে হইচই স্টুডিও যুক্ত। এখানে রিলিজ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে কবে সেটা আমি বলতে পারব না।
সাম্প্রতিক কালে আপনি বলছিলেন, বাংলাদেশে কিছু হল বন্ধ অবস্থায়। আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশের ছবি আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পাচ্ছে। সে ‘বনলতা’ হোক বা ‘রেহানা মারিয়ম নুর’। এর কারণ কী মনে হয়?
- ফেস্টিভ্যালকে কেন্দ্র করে যে ছবিগুলো বানানো হয়, সেই ছবিগুলো কমার্শিয়ালি খুব বেশি হিট করছে না। দুটো আলাদা ব্যাপার। সিনেমা হল খোলা রাখা বা চালানোর ক্ষেত্রে যে ধরনের ছবি কার্যকরী হয়, বা দর্শককে হলে আনা যায়, সেই ছবির সংখ্যা আসলে কম আছে। ফেস্টিভ্যাল ঘরানার ছবিগুলো উৎসবে গিয়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে, ওই দর্শক শ্রেণি একটু আলাদা। সাধারণ দর্শকের সঙ্গে কানেক্ট করার বিষয়টা অন্য।
বাণিজ্যিক ছবি আর সমান্তরাল ছবির ব্যবধান কি বাংলাদেশে কমে আসছে?
- আগের চাইতে বোধহয় কমেছে। আসলে শুধুই আর্ট ফিল্ম দিয়ে যেমন হবে না, তেমন হাইলি কমার্শিয়াল ছবি দিয়েও হবে না।
১৯৪৭-এর দেশভাগের গল্প নিয়ে ছবি। সেই বাস্তবতা এখনও রয়ে গেছে। এখনও কলকাতার প্রচুর মানুষ আছেন, যাঁরা একসময় ওপার বাংলায় ছিলেন। আবার এখান থেকে বাংলাদেশে গিয়েছেন তেমনও আছেন। এই ছবির গল্পটা কানেক্ট করার মতো।
যেমন ‘হাওয়া’...
- ঠিকই। এটাকে দর্শকও জানতেন না কমার্শিয়াল বলবেন না আর্ট ফিল্ম বলবেন।
প্রায় দুই দশক পূর্ণ হল আপনার অভিনয় জীবনের। কী মনে হয় এই সাফল্য, স্টারডম নিয়ে?
- তারও বেশি হবে। ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু করি (হাসি)। সাফল্যের থেকেও বড় কথা, আমি এত বছর ধরে কাজ করছি, এখনও কাজ করার ইচ্ছে জাগে। ভালো চরিত্রের জন্য আগ্রহ হয়। অভিনয় করতেই সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কী কাজ করেছি, দর্শক দেখে বলবে।
চঞ্চল চৌধুরী। ছবি- সংগৃহীত
কামারহাটের চঞ্চল কি নিজের গ্রামজীবন মিস করেন?
- একদম, খুবই মিস করি। শুধু কামারহাট নয়, পুরো গ্রামই মিস করি। সেই মেঠোপথ, সবুজ ধানখেত, গাছপালা, পুকুর খুব প্রিয়।
ব্রাত্য বসুর ‘শেকড়’-এর পর সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘আজাদি’-তে কাজ করলেন। এটা কি দুই দেশেই মুক্তি পাবে?
- এটা আমি জানি না, প্রযোজক বলতে পারবেন। ১৯৪৭-এর দেশভাগের গল্প নিয়ে ছবি। সেই বাস্তবতা এখনও রয়ে গেছে। এখনও কলকাতার প্রচুর মানুষ আছেন, যাঁরা একসময় ওপার বাংলায় ছিলেন। আবার এখান থেকে বাংলাদেশে গিয়েছেন তেমনও আছেন। এই ছবির গল্পটা কানেক্ট করার মতো। ’৪৭-এর ওই সময়ের কারণে, আজকে কোন রিয়্যালিটিতে দাঁড়িয়ে মানুষ সেই গল্প। নিজের ভিটেমাটি-জন্মভূমি ছেড়ে আরেক জায়গায় পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তোলার স্ট্রাগল– সব কিছু আছে ছবিতে। একসময় এই দুই পাশের যে প্রজন্ম দেশ ছেড়েছিল, তাদের মধ্যে দেশভাগের ব্যাপারটা থাকবেই।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর সঙ্গে কাজ হতে পারে আপনার, শুনেছিলাম?
- একটা-দুটো কাজের কথা হচ্ছে। আওয়াজ উঠলেই সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যায়, তা নয়। পরিচালক, স্ক্রিপ্ট, শিডিউল ম্যানেজ করা, ইত্যাদি থাকে। ঋতুদির সঙ্গে বেশ কয়েকটা কাজের আলোচনা চলছে।
আর দেবের সঙ্গে তো আপনার কাজ হতে হতেও হয়নি। সেটা কোথায় দাঁড়িয়ে?
- শেষ দুটো কাজ করতে পারিনি। যাই হোক, আবার হয়তো সামনে হবে।
পরিমণির সঙ্গে কাজটা হচ্ছে?
- ঘোষণা হয়েছে, কাজটা হয়নি এখনও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শাস্তি’ গল্পের অ্যাডাপ্টেশনের ওপর কাজ করার কথা। হয়তো এই বছরের শেষে হবে।
