২০১৬ সালে নিজের দেশ, ভিটে-মাটি, বন্ধু-স্বজন ছেড়ে ভারতে চলে আসা মোটেই সহজ ছিল না আদনান শামির (Adnan Sami) জন্য। একসময়ে পাক নাগরিকত্ব থাকলেও সুরকার যে মনেপ্রাণে ভারতপ্রেমী, সেকথা তিনি যেমন জোর দিয়ে বলেছেন, একাধিকবার আকার-ইঙ্গিতেও বুঝিয়েছেন। তবে এবার আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে নৈশভোজ সেরে কংগ্রেসের কটাক্ষের শিকার আদনান শামি! নৈশভোজের ছবি প্রকাশ্যে আসায় আরএসএস তথা ভাগবতের (Mohan Bhagwat) বিরুদ্ধেও খড়্গহস্ত হয়েছে কংগ্রেস। প্রাক্তন পাক বায়ু সেনা আধিকারিকের পুত্র আদনানের সঙ্গে এক টেবিলে নৈশভোজের জন্য তাঁকে 'দেশদ্রোহী' আখ্যা দিয়েছে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে রাজনৈতিকমহলেও চাপানোতর। এবার কংগ্রেসকে তোপ দেগে পালটা জবাব দিলেন আদনান শামি।
শতবর্ষ উপলক্ষে মুম্বইয়ে দু'দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল আরএসএস। সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন বলিউডের তাবড় সব শিল্পীরা। সেখানেই উপস্থিত হন সঙ্গীত শিল্পী তথা সুরকার আদনান শামিও। সেই ছবি সামনে আসতেই আরএসএস ও মোহন ভাগবতের বিরুদ্ধে তোপ দাগে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডেলে হাত শিবিরের তরফে লেখা হয়েছে, 'আদনান শামির বাবা আরশাদ শামি খান ছিলেন পাকিস্তানি বায়ুসেনার পাইলট। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময় পাঠানকোটের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছিলেন উনি। আজ মোহন ভাগবত তাঁরই পুত্রের সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়া করছেন। আরএসএসের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট দেশদ্রোহিতা।' সমালোচনা করেছেন সঞ্জয় রাউতও। এমন তোপের মুখে পড়ে ছেড়ে কথা বলেননি আদনান শামিও। কংগ্রেসকে নেহেরুযুগের কথা মনে করিয়ে পালটা তোপ দেগেছেন সঙ্গীত শিল্পী।
আদনান শামি, ছবি- এক্স হ্যান্ডেল
এক্স হ্যান্ডেলে জোড়া পোস্টে পালটা কংগ্রেসকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছন শিল্পী। আদনানের মন্তব্য, 'মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের সম্মানিত সব দেশপ্রেমিকরা, বলছি, আপনাদের পূর্বপুরুষরা যে মর্মান্তিক বিভাজনের জন্য দায়ী ছিলেন, তার জন্য কেউ যদি এখন আপনাকে দোষারোপ করে, তাহলে সেটা কি খুব যুক্তিযুক্ত হবে? যাই হোক, তবু আজ আপনারা পাকিস্তানকে একটি বৈধ দেশের স্বীকৃতি দিলেন। একসময় যা ভারত ছিল, এখন পাকিস্তান...। তাই কথা না বাড়িয়ে এগিয়ে যান।' আদনানের আরেক পোস্টের নিশানায় সঞ্জয় রাউত। এবারেও কোনওরকম রেয়াত না করে তিনি লিখেছেন, 'আর আমার প্রিয় সঞ্জয়, তুমি যে জঘন্যভাবে হারমোনিয়াম বাজাও তার জন্য তোমার বাবাকে দোষারোপ করা অত্যন্ত অন্যায় হবে। তুমি ভুল জায়গায় আঙুল তুলছ। কিন্তু আমি তোমায় ঠিকটা শেখাতে পারলে খুশি হব!' এখানেই অবশ্য থামেননি আদনান শামি।
পোস্টের শেষপাতে তাঁর সংযোজন, 'আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি একজন সুরকার, শিল্পী, যে নিজের গানের মাধ্যমে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয় এবং তাই যারা আমাকে ভালোবাসে তাদের সবাইকে ভালোবাসব। আমি অবশ্য তোমাদেরও ভালোবাসি। তাই পরেরবার তোমরাও ভালোবাসার চেষ্টা কোরো। এইটুকুই! জয় হিন্দ এবং জয় মহারাষ্ট্র!'
