মায়নগরীর সিনেপাড়ায় ধুমধাম করে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী। সাধারণ মানুষ হোক বা সেলিব্রিটি, নিষ্ঠা ভরে গণেশ বন্দনায় মেতে ওঠেন আবালবৃদ্ধবনিতা। উৎসবের মুহূর্তে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে পরস্পরের আনন্দে সামিল হন। কমেডিয়ান কপিল শর্মার বাড়িতে গণেশ পুজোর উদযাপনে এসেছিলেন পাঞ্জাবি গায়িকা ও অভিনেত্রী আফসানা খান (Afsana Khan)। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সঙ্গীত প্রযোজক ও গায়ক স্বামীও। সোশাল মিডিয়ায় উৎসবমুখর দিনের ছবি শেয়ার করতেই নিন্দার ঝড়।
নেটভুবনের নীতিপুলিশরা হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ নিয়ে সরব। হিন্দুবাড়ির ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কেন মুসলিম দম্পতি? এই প্রশ্নে সরব সোশালপাড়ার একাংশ। প্রতিবারের মতো এবছরও কপিল শর্মার বাড়িতে গণেশ বন্দানার আয়োজন করা হয়। ফুলে সজ্জিত সাজানো মূর্তির সামনে রংমিলান্তি হলুদ পোশাকে স্ত্রীর সঙ্গে ভগবানের আরাধনায় কপিল। তাঁদের সঙ্গে গণেশ পুজোয় যোগ দিয়েছিলেন তারকা দম্পতি। আফসানা সমাজমাধ্যমে উদযাপনের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে লিখেছেন, 'কপিল পাজি ও গিনি ভাবির বাড়িতে।'
গণেশ চতুর্থী পালনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে লেখেন, 'দিনটা আনন্দ মজায় পরিপূর্ণ ছিল। সেই সঙ্গে অসংখ্য ভালোবাসা।' মিকা সিংয়ের বাড়ির গণেশ পুজোর আনন্দের মুহূর্তও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন আফসানা। তাঁর পোস্টে অনেকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিলেও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে শুনতে হচ্ছে কটূক্তি। এক নেটিজেন আক্রমণাত্মক সুরে লিখেছেন, 'আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। প্রথমে পাপ করে আর তারপর ঈশ্বরের আরাধনা করে।' অপর এক নেটাগরিকের টিপ্পনি, 'খ্যাতির লোভে সে নিজের ধর্ম ত্যাগ করেছে।'
তবে আফসানার অনুরাগীরা এধরনের নেচিবাচক মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এক শুভাকাঙ্ক্ষীর অনুরোধ, 'বন্ধুরা, সমালোচনা করবেন না। সবারই ভুল হয়। তিনি তো এখন আর এমনটা করেন না, তাহলে কেন বিষয়টি টেনে আনা হচ্ছে? অন্তত সিধু পাজির খাতিরে বিষয়টিকে এভাবেই ছেড়ে দিন।' হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আফসানার সমালোচিত হওয়ার ঘটনা প্রথম নয়।
চলতি বছরের আগস্ট মাস, বলা ভালো পবিত্র শ্রাবণ মাসে তিনি স্বামীর সঙ্গে শিবলিঙ্গের রুদ্রাভিষেক করার ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। অনুভূতিও প্রকাশ করে লিখেছিলেন "মেরি তাকত মেরা মহাদেব হ্যায়" যার বাংলা তর্জমা করলে হয়, আমার শক্তিই আমার মহাদেব। সেই পোস্টের কমেন্টবক্সেও ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
