একসময় ভারতের নাগরিকত্ব ছিল না। কানাডিয়ান ছিলেন। তা নিয়ে অক্ষয় কুমারকে (Akshay Kumar) কম খোঁচা সহ্য করতে হয়নি। তবে বর্তমানে তিনি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আবার ইতিমধ্যে তাঁর কেরিয়ারের ঝুলিতে জুড়েছে একের পর এক জাতীয়তাবাদী ছবি। প্রশ্ন উঠছে, 'বিদেশি' তকমা ঘোচাতেই কি এমন ছবিতে অভিনয়? সম্প্রতি এই ইস্য়ুতে আরও একবার মুখ খুললেন অক্ষয়।
অভিনেতার দাবি, অনেক ছবিতেই কাজ করেছেন তিনি। কোনটি কৌতুকে ভরা। আবার কোনটি দেশাত্মবোধক। কোনও ছবিই ইমেজ তৈরির জন্য করেননি। ভালো ছবিতে অভিনয় করার ইচ্ছা সবসময় রয়েছে। সম্প্রতি 'এয়ারলিফট', 'বেবি', 'কেশরি', 'মিশন মঙ্গল'-এর মতো একাধিক ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। যদিও সে ছবিগুলি বাণিজ্যিকভাবে তেমন সফল নয়। তবে তা সত্ত্বেও অনেকেই এই ছবিগুলিতে অভিনয়ের মাধ্যমে অক্ষয়ের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের সুসম্পর্কের টিপ্পনি কাটেন। তাতে অবশ্য কিছু যায় আসে না অভিনেতার। তাঁর কথায়, "ছবিতে অভিনয় করাই আমার কাজ। এটাই আমার ভালোলাগা।"
বলে রাখা ভালো, কেরিয়ার জীবনের একেবারে শুরুর দিকে পরপর ১৪টি ছবি ফ্লপ করেছিল অক্ষয়ের। তারপর আর তিনি এদেশে থাকতে চাননি। কানাডায় এক বন্ধু থাকেন। সেখানেই যেতে চেয়েছিলেন অক্ষয়। বন্ধুর পরামর্শের কানাডার নাগরিকত্ব নেন। ওই বন্ধুর ব্যবসায় সাহায্য করে জীবনধারণ করেন। কিন্তু তারপরই তাঁর ১৫ তম ছবিটি হিট করে। তখনই কানাডা যাওয়ার ভাবনা মন থেকে মুছে ফেলেন। কিন্তু পাসপোর্ট পরিবর্তনের কথা আর ভাবেননি। পরে অবশ্য পাকাপাকিভাবে মুম্বইনগরীতে থাকতে শুরু করেন অক্ষয়। ভাবেন এবার পাসপোর্ট পরিবর্তন করা উচিত। আইনের দ্বারস্থ হন। নানা টানাপোড়েনের পর গত ২০২৩ সালে ভারতের নাগরিকত্ব পান অভিনেতা। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগও করেন। তবে কানাডার নাগরিকত্ব বিতর্ক যেন আজও পিছু ছাড়েনি তাঁর। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে এই বিতর্কেও মুখ খোলেন অক্ষয়। তিনি বলেন, "আমার সব ভারতীয়র সঙ্গে গভীর সম্পর্ক। আমি ভারতীয়। এবং সবসময়ই ভারতীয় থাকব।"
