ব্যাক্তিগত জীবন ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এক অত্যন্ত জরুরি বিষয়।আমজনতার মতোই নিজেদের এই দুই জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে তৎপর বিনোদুনিয়ার তারকারাও। তার মধ্যে অন্যতম বলিউডের বচ্চনসাব অর্থাৎ অমিতাভ বচ্চন। শুটিং ফ্লোর আর ব্যাক্তিগত জীবনের মধ্যে কীভাবে তিনি সামলাতেন সম্প্রতি এক পডকাস্ট শোয়ে তা সামনে আনলেন তাঁর সহ-অভিনেতা রাজা বুন্দেলা।
কীভাবে কীভাবে শুটিং ফ্লোর আর অন্দরমহলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেন অমিতাভ? তাঁর সহকর্মী এই নিয়ে বলেন, "অমিতাভ জি এমনই একটা মানুষ ছিলেন যিনি কখনও কোনও গসিপের মধ্যে থাকতেন না। সময়মতো কাজ শেষ করে তিনি বাড়ি ফিরে যেতেন। আর বাড়ি গিয়ে তিনি পুরো সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাতেই পছন্দ করতেন। এমনকী আমি এরকমও শুনেছি তিনি রাত আটটার পর ইন্ডাস্ট্রির কাউকে তাঁর বাড়িতে আসতে দিতেন না। রাত আটটার পর তাঁর বাড়ির দরজা নাকি বন্ধ হয়ে যেত। আর এভাবেই তিনি পরিবার, সংসার আর অভিনয় জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেন।"
একইসঙ্গে অভিনয়ের প্রতি অমিতাভের নিষ্ঠা ও ভালোবাসা সম্পর্কেও মুখ খোলেন তিনি। এক শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। বলেন, "একবার একটা ছবির শুটিংয়ের সময় একটা কাণ্ড ঘটেছিল। অমিতাভ জি তাঁর জুতো মুম্বইতেই ফেলে এসেছিলেন। তিনি এমনিতে খুবই সচেতন থাকতেন তাঁর ছবির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা নিয়ে। কিন্তু সেইবার তাঁর স্পট বয় যিনি ছিলেন তিনি ভুলে গিয়েছিলেন জুতোটা নিতে। এটা যখন শুটিং লোকেশনে গিয়ে আবিষ্কার করলেন। এরপর সকলেই কমবেশি ভেবেছিলেন যে পরের দিন শুটিং হবে না। সকলে পার্টি করতে শুরু করেন সেই আনন্দে। কিন্তু পরের দিন সকালে অমিতাভ জি সবাইকে যেভাবে চমকে দেন তা বলার নয়। ওই একই জুতো পরে তিনি সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে তাঁর লুকে তৈরি হয়ে যান। আসলে আগের দিন নিজের স্পট বয়কে রাতারাতি মুম্বই পাঠিয়ে পরের দিন সকালের প্রথম বিমানে করে জুতোটা আনিয়েছিলেন। সময়মতো তৈরি হয়ে পরিচালক টিনু আনন্দকে বলেন ছবির শুটিং শুরু করতে। আর এটাই অমিতাভ বচ্চন। যিনি নিজেই শৃঙ্খলার আরও এক সংজ্ঞা।"
