অভিনেতা তথা বিধায়ক হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ব্যাপক বিড়ম্বনায় খড়গপুর বিজেপি। প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে খড়গপুর শহরের বিজেপির বিধায়ক তথা খড়গপুর পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিরণ। খড়গপুর পুরসভার বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা তথা ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনুশ্রী বেহেরা বললেন, "প্রথম স্ত্রীকে বিচ্ছেদ না দিয়ে এইভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করা হিরণের ঠিক হয়নি। একটি সংসার ভেঙে দেওয়াকে একজন মহিলা হিসেবে মেনে নিতে পারছি না।"
এরমধ্যেই বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় হিরণের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী ঋতিকা গিরির একাধিক পুরানো ছবি ও মিম ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তাঁকে শাঁখা-সিঁদুরে দেখা গিয়েছে। তাতে প্রশ্ন উঠছে যে বিয়েটা কি আগেই হয়ে গিয়েছিল, এই সময় তা প্রকাশ্যে আনলেন হিরণ? বহুবার চেষ্টার পর এদিন সন্ধ্যায় ঋতিকার মা সুনীতার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যায়। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ঋতিকার সঙ্গে তাঁদের গত তিনবছর কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, কাকে বিয়ে করেছেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। এদিন সন্ধ্যায় ঋতিকা সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। তিনি লেখেন, "আমার বয়স সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। অনিন্দিতাকে বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই বিয়ে আমরা আগেই করেছি। গত ৫ বছর ধরে একসঙ্গে আছি। এসব বিষয় অনিন্দিতা জানতেন।"
ঋতিকা মুখ খুলতেই অনিন্দিতা আনন্দপুর থানায় গিয়ে হিরণের নামে অভিযোগ জানান। সেখানে তিনি বলেন, "আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাক। তারপর নাচতে নাচতে বিয়ে করুক। হিরণ চট্টোপাধ্যায় ওকে বিয়ে করে কি না দেখব। আমি বার্তা দিলাম ওকে, দেখি কত সুখে শান্তিতে ও সংসার করে। সারাদিন তো শুনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে। বিয়ের আগে যে মেয়ে ১৫ বার আত্মহত্যা করতে যায়, সে যে কত সুখে জীবনযাপন করবে আপনারাই বলুন।" অনিন্দিতার সঙ্গে ছিলেন মেয়ে নিয়াশা। মেয়েকে নিয়ে অনিন্দিতা আনন্দপুর এলাকার বাইপাস সংলগ্ন একটি আবাসনে থাকেন। নিয়াশা বলেন, "ঋতিকা গিরি নিজেই আমাকে মিসড কল দিয়েছিল। তারপর মেসেজ করে জানিয়েছিল আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি।"
